Thursday, October 21, 2021
Homeখবরঅপুকে ডিভোর্স: যা বললেন শাকিব

অপুকে ডিভোর্স: যা বললেন শাকিব

[ad_1]

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের ১০ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক এখন সমাপ্তির পথে। সোমবার ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শাকিবের করা ডিভোর্সের আবেদনের দ্বিতীয় দফা সমঝোতা বৈঠক। কিন্তু প্রথম বৈঠকের মতো দ্বিতীয়বারও শাকিব দেশে না থাকায় ‘সমঝোতা’ মূলত ভেস্তে গেছে। এরপরই ডিভোর্স মেনে নেওয়ার কথা জানান অপু বিশ্বাস। তবে এক্ষেত্রে দুজনের ইচ্ছাতে নয়, বরং শাকিবের সিদ্ধান্তে এই বৈবাহিক জীবনের পর্দা নামল বলে মনে করেন তিনি।

আর শাকিবের কথায় ‘সহ্যের সীমা আছে, অপুর জন্য কী করিনি, সে আমাকে স্বামী হিসেবে কখনো মানেনি। ২০০৮ সালে বিয়ের পর ২০১০ সালে এক নায়কের সঙ্গে তাকে হাতেনাতে ধরার কথা তখন পত্রপত্রিকায় এসেছে। একজন স্ত্রীকে পরপুরুষের সঙ্গে অন্য অবস্থায় ধরে ফেলার পর কোনো স্বামী কি তা ক্ষমা করে। কিন্তু আমি করে দিয়েছিলাম। চেয়েছিলাম সুখে শান্তিতে ঘর করতে। তারপরেও সে নানাভাবে আমাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১০ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে আমার সন্তানকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ অনুষ্ঠানে যাওয়া কি তার উচিত ছিল? সেদিন থেকে অবিরাম পত্রপত্রিকা আর টিভি চ্যানেল এবং ব্যক্তিগতভাবে সে আমার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই চলেছে। এটি কি ভালোবাসার নমুনা? তারপরেও আমি তার ও আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বার বার সব ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।’

শাকিব খান বলেন, ‘১০ এপ্রিলের ঘটনার পরেও নিয়মিত তার বাসায় যেতাম, তার ও আমাদের সন্তানের খোঁজখবর নিতাম। মাসে যা ভরণ-পোষণ দরকার সবই দিচ্ছি। এত কিছুর পরেও সে কখনো আমাকে ঘিরে তার করা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য একবারও সরি বলেনি। সে শুধু আমাকেই অপমান করেনি। আমার বাবা-মাকেও অসম্মান করেছে। সে যদি একবার সবার সামনে এর জন্য ক্ষমা চাইত আমি অবশ্যই সব ভুলে গিয়ে আবার ঘর সংসার শুরু করতাম। আমি বরাবরই চাই আমাদের মধ্যে যা হয়েছে তা ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকুক। প্রতিটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই খুনসুটি কম বেশি থাকে। তাই বলে তা বাইরের মানুষকে জানিয়ে হাসির খোরাক তৈরি করা কেন? শুধু মানুষ হাসবে না, আমাদের বাচ্চা যখন বুঝতে শিখবে আর তার বাবা-মার সম্পর্কে এসব নেতিবাচক ঘটনা জানবে তখন তার মনে কি এর বিরূপ প্রভাব পড়বে না? শাকিব দুঃখ করে বলেন, আমি চাইনি এভাবে আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাক। সন্তানের স্বার্থে সব ঠিক রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গত বছরের নভেম্বরে আমি যখন ছবির শুটিংয়ে দেশের বাইরে ছিলাম তখন সেই সুযোগে সে আমার বাচ্চাকে বাসায় কাজের মানুষের কাছে রেখে ঘর তালাবদ্ধ করে দেশের বাইরে চলে যায়। এমন খবরে সন্তানের জন্য চরম উৎকণ্ঠিত হয়ে দেশে এসে সন্তানকে উদ্ধারে নিকেতনে তার বাসায় ছুটে যাই। কারণ বন্ধ ঘরে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে বাচ্চাটির জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। বাসায় গেলে অনেক ডাকাডাকির পরেও কেউ দরজা খুলল না। উল্টো ভিতর থেকে আমাকে জানিয়ে দেওয়া হলো দরজায় তালা দিয়ে অপু চাবি নিয়ে চলে গেছে। এরপর বাবা হিসেবে আমি কেমন মানসিক যাতনায় ছিলাম তা কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’

ঢালিউড সুপারস্টার বলেন, ‘এরপরও কিছু বলিনি। অপু ফিরে এসে এর জন্য আমার কাছে ক্ষমা তো চায়নি বরং আমার বিরুদ্ধে আবার বিষোদগার শুরু করে। এই অবস্থায় তাকে ডিভোর্স দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো পথ ছিল না। ২২ নভেম্বর বাধ্য হয়ে আইনজীবী মারফত ডিভোর্স লেটার পাঠাই।’

শাকিব আরও বলেন, ‘ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এরপরও চাইছিলাম সে যদি ক্ষমা চায় তা হলে আমি নতুন করে চিন্তা ভাবনা করব। কিন্তু সেই সুযোগও সে আমাকে দেয়নি। বারবার বাচ্চাটি দেখার জন্য চেষ্টা করলেও সে আমাকে তা থেকে বঞ্চিত করে আসছে। বাচ্চার ভরণ-পোষণের জন্য মাসিক খরচ পাঠালে তাও ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। সম্পর্ক শুরুর পর থেকে কেন সে আমার সঙ্গে এমন অত্যাচার করে আসছে বুঝতে পারছি না। শিল্পী হিসেবে অন্য যে কোনো নায়িকার বিপরীতে আমি অভিনয় করতেই পারি। সেখানেও তার বাধা। এতসব যন্ত্রণা আমি আর কত সহ্য করব। মানুষ হিসেবে আমারও সহ্য আর ধৈর্যের সীমা আছে। এখন সে বাচ্চা দেখতে না দিয়ে আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার পথ বেছে নিয়েছে। আমি আর কিছু বলতে চাই না। মানুষ এসব ঘটনা দেখছে, জানছে। সবাই বিবেক দিয়ে তা উপলব্ধি করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

তবে অপুর কাছে শাকিবের এসব বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আমি নই, বরং শাকিবই আমাকে বিয়ের পর থেকে অবহেলা করেছে।’

[ad_2]

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments