Saturday, October 16, 2021
Homeমুক্তমতইসলাম শান্তির ধর্ম

ইসলাম শান্তির ধর্ম

[ad_1]
এরশাদুল হক দুলাল: বাবা আদম (আঃ) কে সৃষ্টির পরে লওহে মাহফুজের নীচে আল্লাহ পাক শায়িত অবস্থায় অনেক দিন রাখেন। অতঃপর আল্লাহ পাক স্বয়ং এসে রুহু মোবারককে দেহ অভ্যন্তরে প্রবেশ করান। রুহু মোবারক কিছুক্ষণ থেকে বের হয়ে আসে এবং আল্লাহ হুজুরে হাজির হয়ে নিবেদন পেশ করেন যে, হে আল্লাহ এর ভিতরে অনেক অন্ধকার।আমি থাকতে পারছি না। তখন আল্লাহ পাক নূরে মোহাম্মদী থেকে কিছুটা নূর আদম (আঃ) এর শরীরে ছিটিয়ে দেন। এরপর রুহু মোবারককে প্রবেশ করতে বলেন এবং প্রশ্ন করেন এখন কি তোমার এর ভিতরে প্রবেশ করা সম্ভব? তখন রুহু মোবারক বলেন হে আল্লাহ এখন আমার পক্ষে এখানে থেকে রুহানী দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।

নূরে মোহাম্মদী হল এমন এক নূর যা মানুষের নিষ্পাপ, বেগুনা এবং মাসুম বান্দায় পরিণত করে। পৃথিবীতে সকল অশান্তির কারণ হল পাপ। আর এই পাপ দূরীকরণের উপায় হল আলেকিত হৃদয়। এজন্য কোরআন শরীফে সূরা ফোরকান এবং সূরা নূর নামে দুটি সূরা আছে। যদিও সমস্ত কোরআন তেলোয়াতেই মানব হৃদয়ে নূর কায়েম করে। তবুও আলোকিত হৃদয় এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের জন্য বিশেষ ভাবে দুইটি সূরা এবং কিছু সংখ্যক আয়াত নির্দেশিত হয়েছে।

মানুষকে যখন আল্লাহ পাক মাতৃগর্ভে আকৃতি দান করেন তখন নূরের হাত দ্বারা কাজ করেন। যাহা অদৃশ্য। প্রত্যেকটি মানব সন্তান পৃথিবীতে আলোকিত হৃদয়, আলোকিত চেহারা এবং আলোকিত শরীর নিয়ে আসে। যার মানে হলো সৃষ্টি পৃথিবীতে নিষ্পাপ অবস্থায় আসে এবং নিষ্পাপ অবস্থায় যে আসে তার প্রমান হলোঃ আলোকিত চেহারা। বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে রিপুর তাড়নায় প্রবৃত্তির বশে এবং শৈশব থেকে পারিবারিক ভিত্তিতে নৈতিক শিক্ষা, জ্ঞান এবং চর্চার অভাবে আত্ম নিয়ন্ত্রনে বলিয়ান এবং প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কারণে মানুষ ধীরে ধীরে ছোট পাপ থেকে বড় পাপের দিকে ধাবিত হয়।

ইসলাম বলে আত্মশুদ্ধীর চেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রন উত্তম এবং নফসের সঙ্গে জিহাদ করাই সর্ব উৎকৃষ্ট জিহাদ। জিহাদ এর মাধ্যমে বান্দা তার মাসুম অবস্থা অর্থাৎ নিষ্পাপ অবস্থা বজায় রাখতে পারেন অথবা নিষ্পাপ অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। এভাবেই বিশ্ব শান্তি সম্ভব।

আন্তঃধর্মীয় সম্প্রতি বিশ্ব শান্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। এখানে ভগবান শ্রী কৃঞ্চের শিক্ষা, হযরত ঈশা রুহুল্লা (আঃ) এর শিক্ষা, স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা, মহামতি শ্রী শ্রী গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা এবং আখেরী নবী সাইয়েদুল মুরাসালিন হুজুরে আকরাম (সঃ) এর শিক্ষা সর্বজনের জন্য প্রযোজ্য। বৃদ্দিষ্ট জগৎ একটি ধর্মীয় জগৎ, খ্রীষ্টীয় দীক্ষায় দিক্ষিত জগৎ একটি ধর্মীয় জগৎ, সনাতন ধর্মীয়দের একটি ধর্মীয় জগৎ এবং আখেরী নবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) এর অনুসারী মুসালমানদের ধর্মীয় জগৎ। অর্থাৎ এ চার জগতের সমন্বয় করতে গিয়ে দেখলাম যে, ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ (সঃ)। যখন অন্য ধর্মালম্বীরা প্রশ্ন করে আপনাপদের দাবী মোতাবেক হুজুরে আকরাম (সঃ) যদি সাইয়েদুর মুরসালিন এবং ইমামুল মুরসালিন হন তবে তবে বলেন কেন? এর জবাব হলো তিনি আত্মনিয়ন্ত্রনের শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোউৎকৃষ্ঠ নিষ্পাপ।

মানুষকে পাপের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহ পাক যুগে যুগে বিভিন্ন অবতার এবং নবী রাসূলগণ প্রেরণ করেছেন। যেহেতু আখেরী জামানা এবং এই জামানার আদম সন্তানদের পরিবেশ-পরিস্থিতি, চিন্তা-চেতনা, ধর্ম-দর্শন, পরিমার্জিত করে সহজ সরল পথে ফিরিয়ে আনতে যে চেতনার প্রয়োজন সেই চেতনা একমাত্র কোরআনুল করীম এর মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পরিবর্তীত ধ্যান-ধারণার সঙ্গে মূল ইসলামকে সমন্বয় করতে আল্লাহ পাক যুগে যুগে সংস্কারক অর্থাৎ (Reformer) পাঠিয়েছেন। সংস্কারকগণের দায়িত্ব হলো-এহসান এবং এহসানিয়াত এর মাধ্যমে মানব মনকে স্পর্শ করা যাতে তারা “আইয়ুকুম আহসানা আমালা” এর মর্ম উপলব্ধি করেন। এটা হলো মূলক এর ৩ নম্বর আয়াত, ২য় আয়াত হলো “আল্লাহ পাক হায়াত এবং মওত সৃষ্টি করেছেন”। দুটি আয়াত মিলালে যাহা দাড়ায় মওত ও হায়াত সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি দেখতে পারেন কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম। অনেক ভেবে চিন্তে দেখলাম সবচেয়ে বড় এহসান হলো সেই জ্ঞান যা মানুষকে বুঝতে সহায়তা করে সময়, স্বীয় এবং গন্তব্য। প্রসঙ্গতঃ শান্তির ধর্ম ইসলামে ফিরে আসি।

পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ম আসেনি যে ধর্মে শান্তির কথা বলেননি। একটু বিবৃত করলে বলা যায় সনাতন ধর্মে অংশান্তি, অংশান্তি, অংশান্তি শান্তি- শান্তি- শান্তি, বৌদ্ধ ধর্মে সর্বে সত্তা সুখিতাহোন্তু, খ্রীষ্টীয় ধর্মে Peace be upon you. মুসলিম ধর্মে আল্লাহুম্মা অমিনকাস সালাম………. ইয়া জাল জালালী অল ইকরাম। অর্থাৎ আদম (আঃ) থেকে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সঃ) সর্বনবীগণ শান্তির বানী প্রচার করেছেন। বলেছেন ক্ষমা কর, ভালবাস। বাংলায় বললে সর্ব ধর্মই শান্তির ধর্ম, আরবীতে বললে সকল সর্ব ধর্মই ইসলাম ধর্ম। তাহলে ধর্মের বিভিন্নতা কেন ? মত এবং দর্শনের পার্থক্য কেন? এর জবাব হলঃ- বিভিন্ন যুগে বিশ্ব ব্যবস্থাপনায় জনগণের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারনা, আসক্তি-নিরাময়, সমস্যা এবং সমাধান সভ্যতার উত্তরন এবং বিকাশ বিভিন্ন রকম ছিল। মানুষকে তার মূল লক্ষ ও গন্তব্য ফিরিয়ে আনতে এবং মানব মন যেহেতু বিভিন্ন স্বাদে অভ্যস্ত তাই আল্লাহ পাক চিন্তা-চেতনার বিভিন্নতা প্রদান করেছেন লক্ষ ও উদ্দেশ্য ঠিক রেখে। যাতে মানব মন চিন্তা এবং মতাদর্শে বিভিন্ন স্বাদ এবং উপকরণ পেতে পারেন। সংক্ষেপে বললে বৃটেনের একজন প্রখ্যাত শিল্পী রিচার্ড ম্যাক্স এর গানের উক্তি Ever changing world Pushes me through another door. . অর্থাৎ সতত পরিবর্তন বিশ্ব।

সভ্যতার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখি যে, পৃথিবী আদি থেকে এ পর্যন্ত যুগে যুগে পরিবর্তিত-বিবর্তিত ও পরিশোধিত হয়ে উত্তরনে মাধ্যমে আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছেন। এই আধুনিক যুগের আধুনিক মানুষের আধুনিক সমস্যা-সমাধান করার জন্য আধুনিক চিন্তা এবং চেতনার যে উপযোগী সর্বশেষ কিতাব তার নাম কোরআনুল করীম, কোরআনুল মাজীদ, কোরআনুল হাকীম ও ফোরকানীহীল হামীদ।

আর সর্বশেষ এই ঐশী গ্রন্থে রয়েছে মানুষের জীবন পরিবর্তনের অপরিসীম সম্ভাবনা। এটি অসাধারণ প্রজ্ঞা, সুন্দর বাচনভঙ্গী এবং অশেষ রহমতে পরিপূর্ণ। যখনই আপনি এই গ্রন্থের নিকটবর্তী হবেন, এই গ্রন্থ অধ্যয়, ইজ্জত প্রদান, আলোচনা, পর্যালোচনায় ব্রতী হবেন, তখনই আপনার মন, মনন ও মেধা অশেষ রহমতে পরিপূর্ণ হবে। কোরআন বুঝার ফলে জীবনের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গীর হবে আমুল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনেই আপনার জীবনে এনে দিবে প্রশান্তি এবং বদলে দিবে আপনার জীবন।

(ক্রমশ)

লেখক:

মোঃ এরশাদুল হক দুলাল
পরিচালক
সচেতনতা এবং উদ্দীপনা
ডেভেলপমেন্ট কো-অডিনেশন সোসাইটি (ডিসিএস)

E-mail: [email protected]

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments