ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের কাচারি বাড়ি।

এম এ হান্নান, শাহজাদপুরঃ

পবিত্র ঈদ উল_আযহা মুসলিম উম্মার ২য় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। বুধবার( ১২আগষ্ট) ত্যাগের মহিমায় বিশ্বব্যাপী ঈদ উল আযহা পালিত হবে।ঈদের এই ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন শাহজাদপুরে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাচারি বাড়িতে। স্থানীয়রা একে কাচারি বাড়ি বলে থাকেন।

সুপ্রিয় পাঠকদের জন্য বিশ্বকবির কাচারি বাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো; সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি। শাহজাদপুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তার মানস গঠনেও এ অঞ্চলের প্রভাব অনস্বীকার্য। ১৯৪০ সালে ‘বাণী সম্মেলনীতে তিনি স্বহস্তে লিখে পাঠান সে কথা।১৯৯৬ সালে এই কাছারি বাড়ীকে পরিছন্ন করে সরকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে সংরক্ষণের উদ্দ্যোগ নেয়। এবং ১৯৯৯ সালে কাছাড়ি বাড়ীর পশ্চিম আঙ্গিনায় ৫০০ আসন বিশিষ্ট উত্তর বঙ্গের সবচেয়ে নান্দনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণ করে। প্রতি বছর ২৫, ২৬, ২৭ বৈশাখ কবির জন্মজয়ন্তী সরকারীভাবে উদযাপন করা হয় নানা অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে । এ উপলক্ষে ৫দিন ব্যাপী বসে মেলা। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি ভক্তরা ভীড় করে কবির কাছারি বাড়ীতে। বর্তমানে কাছারি বাড়ীটি আধুনিকতায় বাহারী গাছ ও ফুলের সমারোহে সুসজ্জিত করার ফলে পর্যটকদের দারুন ভাবে আকর্ষিত করছে ।

শাহজাদপুরের পৌর শহরের দ্বাড়িয়াপুরে শাহজাদপুর কাপড়ের হাট সংলগ্ন উপজেলা পরিষদের উত্তরে প্রায় দশ বিঘা জমির ওপর পুরো কাছারি বাড়ির অবস্থান।রবীন্দ্র স্মৃতি যাদুঘর হলুদ রঙের দোতলা ভবন। ভবনের দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার, উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। প্রতি তলায় সাতটি করে ঘর। উত্তর ও দক্ষিণে প্রশস্থ বারান্দা। কুঠি-ভবনের পাশেই কাছারি বাড়ি,মালখানা পুরোটাই ‘রবীন্দ্র -কাছারি।

জানা যায় ১৯৩৯ সালে তের টাকা দশ আনায় জমিদারি কিনে নেন কবির পিতামহ দারকানাথ ঠাকুর। তার আগে এখানে ছিল নীলকরদের নীলকুঠি। তবে নীলকুঠি বর্তমান পরিত্যাক্ত। ১৮৯০ সালে লন্ডন থেকে ঘুরে আসার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর জমিদারি তদারকির ভার ন্যস্ত হয়। কাছারি বাড়ির দক্ষিণ দিকের গেটটি বর্তমানে প্রধান গেইট করা হয়েছে।কাছারি বাড়ির গেটে দাঁড়ালেই চোখ জুড়িয়ে যায়, বড় বাগান। নানা রঙের ফুল, বাগানের পরই তার হলুদ রঙের দোতলা কুঠি। নিচের তলা জুড়ে রবীন্দ্রনাথের নিজের বিভিন্ন ছবি, তার আঁকা ছবি এবং তার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির পাতার অংশ বাধাই করে দেয়ালে টানানো রয়েছে। কিছুদিন আগেও এখানে লাইব্রেরি ছিল। অডিটোরিয়াম হওয়ার পর লাইব্রেরিটি তারই একটি কক্ষে স্থানান্তরিত হয়েছে। উত্তরদিকের বারান্দার একেবারে পশ্চিমে সিঁড়িঘর। গোল-প্যাঁচানো সিঁড়িটি যেন সবাইকেই উপরে উঠার জানান দেয়। ওঠার সময় পশ্চিমে একটি জানালা। সিঁড়ির মুখেই দুটি দরজা একটি দরজা খোলা শুরুতেই একটি পালকি। ঠাকুর বাড়ির পালকি। বংশ পরম্পরায় ব্যবহার হয়েছে এটি, পড়ার টেবিল, চিঠি লেখার ডেস্ক, আলনা, গোল টি-টেবিল। এরপর এঘর থেকে সেঘর। সেগুলোতে রক্ষিত রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত নানারকম আসবাব-তৈজষপত্র বেতের চেয়ার, বড় ড্রেসিং টেবিল, চিনা মাটির ছাকুনি, টেবিল বেসিন, আলনা, দেবতার আসন, বড় টেবিল, শ্বেত পাথরের গোল টেবিল, ইজি চেয়ার, পিয়ানো, কাঠের দোলনা চেয়ার, সোফা সেট, হাতলযুক্ত চেয়ার, স্ট্যান্ডে সংযুক্ত দুটি ড্রয়ার, হাতলওয়ালা গদিযুক্ত চেয়ার, আলনা স্ট্যান্ড, ৫টি আলমারি, আলমারির ভেতরে কেতলি, সসপ্যান, ফ্রাইপ্যান, কাটা চামচ, চিনা মাটির ফুলদানি, ডিস, টব, জগ, জমিদারি মনোগ্রাম ৭টি, বালতি, কেরোসিনের বাতি, ঘণ্টা ট্রে, বাতির চিমনি ইত্যাদি। আরও রয়েছে দুটি খাট। এছাড়া আরও অনেক কিছু ছিল। যেগুলো ঢাকায় জাদুঘরে স্থানান্তরিত হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ঐ জিনিসগুলো আবার ফিরে পেতে চায়।প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ শত দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন এই কাছারি বাড়িতে।আপনি যদি ইচ্ছে করেন তাহলে পরিবারপরিজন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঈদের এই ছুটি

#যেভাবে যাবেন;
সিরাজগন্জ রোড থেকে শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালেই চোখে পড়বে কবিগুরুর ভাসকর্য।ওখান থেকে রিক্সাযোগে অথবা গাড়ি যোগে সরাসরি কবি গুরুর কাছারি বাড়িতে যাওয়া যায়।তবে চলাচলের সুবিধার্থে দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড হয়ে আসতে পারেন।

যাদুঘর পরিদর্শনের সময় সূচীঃ মঙ্গলবার_শনিবার সকাল১০টা হতে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।দুপুর ১টা থেকে ১ঃ৩০ পর্যন্ত বিরতি
শুক্রবার সকাল১০টা থেকে দুপুর১২ঃ৩০ পর্যন্ত এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।
সোমবারঃ২ঃ৩০থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।

সাপ্তাহিক ছুটিঃ রবিবার পুর্নদিবস ও সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে,অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে।

প্রবেশঃ
টিকেটমুল্য,- দেশি পর্যটক ২০টাকা এবং সার্কভুক্ত বিদেশী পর্যটকের টিকিট মুল্য ১০০টাকা কিন্তু সার্কের বাইরের বিদেশী পর্যটকের টিকিট মুল্য ২০০টাকা। এক টিকিটে সারাদিন কাচারিবাড়ি পরিদর্শন করার সুযোগ আছে।

পার্কিং- বাস/ট্রাক ১০০টাকা
মাইক্রোবাস৫০টাকা এবং মোটর সাইকেল ১০টাকা।

সতর্কতাঃ কবিগুরুর কাচারি বাড়িতে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি কোন ব্যাক্তি কোনরুপ ধ্বংস বা অনিষ্ট সাধন করলে বা কোনরুপ বিকৃত বা কোনরুপ অংগচ্ছেদ ঘটালে বা কোন কিছু লিখলে অথবা খোদাই করলে বা চিহ্ন,দাগ কাটলে ১৯৬৮ সালের ১৪নং পুরাকীর্তি আইনের ১৯ ধারার অধীনে তিনি সর্বাধিক এক বছর জেল-জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here