এমপি-মন্ত্রীসহ উপরমহলের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা কে এই জ্যেমি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

0
468

কখনো প্রধানমন্ত্রীর কথিত মেয়ে, কখনো আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের বন্ধু আবার কখনো বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করে আসছিলো সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মেয়ে জ্যেমি পারভিন(৩৮)। আর দেশের স্বনামধণ্য মানুষদের সাথে ছবি উঠে, তা ফেসবুকে আপলোড করে নিজেকে তাদের কাছের মানুষ বলে জিম্মি করতো প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও। আর ফেসবুকে তার নিজস্ব ওয়ালে বিভিন্ন মানুষ সম্পর্কে কটুক্তি সহ নানা হুমকি দিতেন।

সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় একজন সংসদ সদস্যকে জড়িয়ে নানা কটূক্তি ও অশোভন মন্তব্য করায় তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত সাইবার ক্রাইম মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে। গত ০৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাইবার এন্ড স্পেশাল বিভাগ তাকে গ্রেফতার করে।
আর এর পরই তার নিজ এলাকার ভূক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করেন।

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী গ্রামের জ্যেমি পারভিন এখনো সন্দেশ বিক্রেতার মেয়ে নবীয়া নামেই পরিচিতো ছোট বেলায় তালগাছী স্কুলে বাবার সাথে সন্দেশ বিক্রি করতো নবীয়া। কখনো কখনো যাত্রাপালায় গানও গাইতেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথেই নবীয়া হয়ে ওঠেন জ্যেমি পারভিন। সবশেষ জ্যেমী আস্থানা গড়েন ঢাকায়। গান নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। নিজের চাতুড়তায় সখ্যতা বাড়ান আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বড় বড় নেতাদের সাথে। আর তাদের সাথে ছবি তুলে ফেসুবকে আপলোড দিয়ে নিজেই নিজেকে প্রচার করেন আওয়ামীলীগের নারী নেত্রী হিসেবে। আর নিজেকে অনেক শক্তিশালী ভেবে নিজের ফেসবুক ওয়ালে প্রচার করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নামে কটুক্তি আর কখনো জ্যেমির কথামতো না চললে স্থানীয় সাধারন মানুষকে পড়তে হতো নানা ধরনের মামলায়।

স্থানীয় ভূক্তভোগীরা বলেন, মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে প্রাইভেট কার নিয়ে আসতো, প্রধানমন্ত্রীর কাছের লোক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছের লোক এইগুলো বলে এলাকার মানুষকে ভয়ভিতি দেখাতো। তার কথা মতো না চললে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা সহ হত্যা চেষ্টা ও অপহরনের মামলা হতো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে। আর পরবর্তিতে মামলা নিষ্পত্তির নামে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নিতেন বিপুল পরিমান টাকা। আর সেই টাকাতেই ঢাকা সহ উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুরে গড়ে তুলেছেন অন্তত ৪টি বাড়ি। স্বরাষ্ট মন্ত্রীর সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে থানার কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতো বলেও অভিযোগ স্থানীঁয়দের।

তবে জ্যেমির মা সোনাভান বেগমের দাবী আমার মেয়ে কারো কাছ থেকে কোন ধরনের টাকা পয়সা নেয়নি, আমার মেয়ে নিরাপরাধ। এসব অভিযোগ সব মিথ্যা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে জেমির জন্য বেশ কয়েকটি সালিশ বৈঠক স্থানীয়ভাবে হয়েছে। তবে জ্যেমির অধিকাংশ অভিযোগই মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। থানায় দায়ের করা মামলাগুলো মিথ্যা মামলা বলেও জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান, জ্যেমি পারভিনের বিগত সময়ের রেকর্ড যাচাইবাছাই চলছে। তবে তার বিরুদ্ধে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

জ্যেমি আটকের খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শাহজাদপুর আর উল্লাপাড়ার নির্যাতিত মানুষ। তার বিচারের দাবীতে একত্রিত হয়ে নেমেছেন মানববন্ধনে। দ্রুত তার অপকর্মের বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত দেখতে চায় ভূক্তভোগীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here