এশিয়ায় ১৩তম অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ

যমুনা ডেস্ক :

0
35

সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা কিছু কাজ করেছিলাম। যা মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছিল। এর আট বছর পর আমরা আবার ক্ষমতায় আসার পর এক দশকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন করে যাচ্ছি।

এডিবির রিপোর্ট অনুযায়ী, এশিয়ায় ১৩তম অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বে ৩০তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেশি টাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে দেয়ার পরও যদি কেউ বলে দাম কেন বাড়ানো হল? তাহলে বলব, বিদ্যুতের দরকার নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন করব না এবং সব বন্ধ করে দেই।

তা না হলে যেটা খরচ হবে সে দামে বিদ্যুৎ কিনতে হবে। লাভ করতে চাই না, অন্তত খরচের টাকাটা তো পেতে হবে। কিন্তু আমরা তো খরচের টাকাটাও নিচ্ছি না। বিদ্যুতের দাম বাড়ল কোথায়- এমন প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ছয় টাকা খরচ হয় সেখানে চার টাকায় বিদ্যুৎ দিচ্ছি। যখন বিদ্যুৎ ছিল না, তখন জেনারেটর চালাতে হতো, তখন খরচও তো বেশি হতো।

তাহলে বিদ্যুতের দাম দিতে আপত্তি কেন? সবাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে বিলও কম আসবে। তিনি বলেন, প্রায় ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। গ্যাসের অনুসন্ধান চলছে। কিন্তু গ্যাসের স্বল্পতা রয়েছে। গ্যাসের সমস্যা হওয়ায় এলএনজি আমদানি করছি।

৬০ টাকা খরচ পড়লেও ১২ টাকায় দিচ্ছি। তিনি বলেন, এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২৬ টাকা খরচ হয়। সেখানে আমরা তিন থেকে চার টাকা নিচ্ছি।

বাংলাদেশের উন্নতি অনেকে পছন্দ করতে পারে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরে যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল, বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে চেয়েছিল; তারা চক্রান্ত করছে ও করেই যাবে। তিনি বলেন, সংসদ জনগণের জন্য কাজ করে।

এক দশকে উন্নয়নের জন্য যে কাজ হয়েছে, তাতে বিশ্বের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আজকের বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে- বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা জনগণের জন্য কাজ করেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জনগণের জন্য কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করে যাচ্ছে। প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। দুর্নীতিমুক্ত লোক নিয়োগ দিয়ে পুলিশ বাহিনী সুনাম অর্জন করছে।

ডেঙ্গু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে আমরা কাজ করছি। লার্ভা ধ্বংস করছি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা সিঙ্গাপুর গেছে। আর উত্তরের মেয়র বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজের পা-ই ভেঙে ফেলেছেন। নিজেকে নিজেরা সুরক্ষিত করতে হবে।

আমরা মশা মারার ব্যবস্থা নিচ্ছি। শিক্ষা ব্যবস্থার যাতে উন্নতি হয়, সেগুলোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সেশন জট নেই বললেই চলে। উচ্চতর শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছি। আমরা উন্নয়নের পথে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, এ ধারাটা যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে বাংলাদেশকে উন্নত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চা সবার জন্য অবাধ করে দিয়েছি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যও কাজ করে যাচ্ছি।

অর্থনৈতিক উন্নতি করছি। উন্নয়নের সুফল মানুষ গ্রামে থেকেও পাচ্ছে। এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে নিজ এলাকার উন্নয়ন তদারকি করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে : বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যাত্রীদের চাপ, যানবাহন চলাচলের গতি, সড়কের দৈর্ঘ্য, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার স্থপতিদের প্রতি তিনি এ নির্দেশ দেন। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রত্যক্ষ করার সময় শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য আপনাদের জনগণের সম্ভাব্য চাপ, যানবাহনের গতি, প্রকল্প এলাকাগুলোর সড়কের দৈর্ঘ্য ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।

যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা ও এ লক্ষ্যে পানি সংরক্ষণের জলাধার খননে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য স্থপতিদের প্রতি তিনি নির্দেশ দেন।

অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ভবনগুলোতে কিছুটা খোলা জায়গা, ন্যাচারাল ভেন্টিলেশন, বারান্দা ও আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান।

নির্মাণাধীন বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ও ভবনগুলোতে যথাযথ বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি নির্দেশ দেন। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর সব দিকের পরিবর্তে একদিকে স্যুয়ারেজ লাইন নির্মাণের পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপিত প্রকল্পগুলো হল- সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ঢাকার আজিমপুর সরকারি কলোনির মধ্যে বহুতল ফ্ল্যাট ভবন নির্মাণের সংশোধিত মাস্টার প্ল্যান এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভার জন্য বড় পরিসর রেখে ২০ তলা ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্প।

অন্য দুটি প্রকল্প হল- শেরেবাংলা নগরে বিশ্ববিখ্যাত প্রকৌশলী লুই আইকানের স্থাপত্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ৪৩ একর জমির ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ এবং রাজধানীর হাতিরঝিলে ২০ তলা বহুমুখী ভবন নির্মাণ।

এ ছাড়া হাতিরঝিলে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কার পার্কিং সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি বহুমুখী ভবন নির্মাণের প্রকল্প প্রত্যক্ষণের পর প্রধানমন্ত্রী পদ্মা অথবা যমুনা নদীর পাড়ে ২০ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের পরামর্শ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here