ছোট কাপড় আমার জন্য প্রবলেম: দোয়েল ম্যাশ

[ad_1]

মডেল ও অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল। শোবিজে তিনি দোয়েল ম্যাশ নামেও পরিচিত। সুদর্শনা এ অভিনেত্রীর মিডিয়ায় আগমন দেশের নামধারী একটি পত্রিকার কাভারের মাধ্যমে, ২০১৪ সালে। এরপর নিয়মিত হয়ে যান শোবিজে। বড় কিংবা ছোট- উভয় পর্দায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সম্প্রতি চ্যানেল আইতে চলমান মেগা সিরিয়াল ‘সাত ভাই চম্পা’তে সেজ রানী হিসেবে দর্শক দেখতে পান তাকে।

মডেলিংয়ের পাশাপাশি ‘কোড নেম আলফা’ ও ‘চন্দ্রাবতী কথা’ নামে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও ‘কবি স্বামীর মৃত্যুর পর আমার জবানবন্দি’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। কাজ করেছেন মিউজিক ভিডিওতে। সম্প্রতি তার কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয়।

অভিনয় জগতে কোনো আইডল নেই তার। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন ‘আমি মূলত কোনো প্রিপারেশন ছাড়াই হুট করে মিডিয়ায় চলে এসেছিলাম, প্রিপারেশন না থাকায় গুছিয়ে উঠতে আমার কিছুটা সময় লেগেছে।’

তার কাজের মূল জায়গা মূলত মডেলিং। তবে আজকাল বাংলাদেশের মডেলিংয়ে ডিজাইন কস্টিউমসহ আরও বিভিন্ন অংশে বিদেশিদের অনুকরণ পরিলক্ষিত হয়- এ অভিযোগকে উড়িয়ে দেননি মডেল দোয়েল। বললেন, ‘ঠিক তাই, ধরুন কোনো একজন ক্লাইন্ট এবারে পহেলা বৈশাখে একটা শুট করতে চান। এরপর তারা যে লে আউটটা দেখান, সেগুলো অনেকটাই বাইরের দেশের অনুকরণ। শুরুতেই যদি বাইরের লে আউট ফলো করে কাজ শুরু করা হয় তাহলে তো কাজের মধ্যে কপির ছোঁয়া থেকেই যাবে। কিন্তু বিষয়টিকে আমাদের নিজেদের মতো করে করা উচিত, সেটা আমরা করি না। আর তাই অনুকরণের বিষয়টা চলে আসে।’

অনুকরণের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ম্যাশ আরও বলেন ‘যেমন আমি যখন মিউজিক ভিডিও করি, তখন আমাদের অনেকগুলো বিদেশি গান থেকে একটু একটু করে নিয়ে দেখানো হয় যে আমরা এই প্যাটার্নে করতে যাচ্ছি। মুভমেন্ট, টি-শার্ট কিংবা ড্রেসআপের মধ্যেও ওই বিষয়টা থাকে।’

বর্তমান মডেলিং ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে কিছুটা অভিযোগের সুরেই দোয়েল ব্যক্ত করেন, ‘আমাদের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি খুব ছোট। আমাদের মডেলদের কিন্তু প্রোপার ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয় না। কিন্তু মডেলদের উপর ভর করে অনেক ফ্যাশন হাউজ থেকে শুরু করে অনেক প্রোডাক্ট রান করছে। দিন শেষে মডেলরা প্রোপার টেক কেয়ার পান না। আমাদের মডেলদের পেমেন্ট খুবই কম।’

এ তো গেল কেবল মডেলিংয়ের ফিরিস্তি। অভিনয় অঙ্গনে বিড়ম্বনারও যেন কমতি নেই। পত্র পত্রিকার পাতা উল্টালেই ডিরেক্টর-আর্টিস্টের নিয়ে নানা ধরনের গসিপ শোনা যায়। ‘সত্য কথা বলতে গেলে এ রকম বিড়ম্বনায় আমাকে কখনোই পড়তে হয়নি। আর কাজের ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই যে- কাজই যদি আপনার মেইন ফোকাস থাকে, আমার মনে হয় না যে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আমরা যখন ইনডোর শুট করি, তখন আমাদের অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। ড্রেস, চুল কিংবা লুক চেঞ্জ করার জন্য অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই আমার মনে হয় না যে কাজের জায়গায় কোনোপ্রকার বিড়ম্বনা হওয়ার অবসর থাকে’-বললেন এ অভিনেত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘তা ছাড়াও মিডিয়ায়ই যে মেয়েদের প্রবলেম হয় ব্যাপারটা তা নয়। তবে মিডিয়ারগুলো বেশি হাইলাইট হয়। তবে যেগুলো এ পর্যন্ত হাইলাইট হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে কাজের কোনো সম্পর্ক নেই।’

মডেলিং বা অভিনয়ে আসার জন্য সেই অর্থে পারিবারিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি দোয়েলকে। মডেলিংয়ে ডেডিকেশন ও স্বল্পবসন পরার বিষয়ে রয়েছে তার নিজস্ব অভিমত। দোয়েলের বক্তব্য, ‘আমি যেখানে কাজ করতে যাব, তারা আমাক যতটা সাপোর্ট করব, আমি তাদের কাজের প্রতি তততাই ডেডিকেট থাকব। আর আমাদের দেশে আউটডোরে ওই ধরনের কাপড় চোপর পরে বের হওয়া দৃষ্টিকটু। আবার খুব বেশি নেগেটিভ দিয়ে কিন্তু আপনি খুব বেশি চেঞ্জও করতে পারবেন না।’

‘মডেলিংয়ের ক্ষেত্রে ছোট কাপড় চোপর আমার জন্য একটু প্রবলেম। কিন্তু কোনো একটা ক্যারেক্টার প্লে করার জন্য আমার ড্রেস বা কস্টিউম নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই’- নিজের কথার সঙ্গে যুক্ত করেন দোয়েল।

বিকিনি পরে শুট কিংবা অভিনয় করায় আর কোনো আগ্রহ বা অনাগ্রহ আছে কি না, জানতে চাইলে এ মডেল বলেন, ‘আমাদের দেশে বিকিনি পরা কোনো সিন দেখাতে দেবে কি না আমি জানি না। কিন্তু এটা যদি বাইরের দেশের কাজ হয়। তারা যদি উইলিংলি এটা দেখাতে পারে এবং তাদের সঙ্গে আমার কন্ট্রাক্ট থাকে, তাহলে পরা যায়। এ ছাড়াও আমাকে বুঝতে হবে যে প্রোডাকশনটি কী। শুধু টাকার জন্য নয়। প্রোডাকশনটা কী, বানাচ্ছে কে এটার গোল কী এসব দিক বিবেচনা করে তারপর করা যায়।’

প্রসঙ্গত আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিল বোর্ডে যদি হট প্যান্ট পরা ছবি দেওয়ার পারমিশন থাকত, তাহলে আমি অবশ্যই হট প্যান্ট পরে ছবি তুলতাম। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে আমাদের তো পারমিশনই নাই।’

নিয়মিত বাংলা সিনেমা ও নাটক দেখেন তিনি। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে স্মরণ করলেন প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদির কথা। এছাড়াও বিপাশা হায়াত, জয়া আহসান ও নুসরাত ইমরোজ তিশার অভিনয় শৈলী মুগ্ধ করে তাকে।

ক্রিকেট নিয়েও উন্মাদনা রয়েছে তার। গেলবার রংপুর রাইডারের অফিসিয়াল সাপোর্টার ছিলেন তিনি।

বর্তমানে শুটিং নিয়েই ব্যস্ত দিন পার করছেন দোয়েল ম্যাশ। এফডিসির জসিম ফ্লোরে ‘সাত ভাই চম্পা’ সিরিয়ালের সেজ রানী চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলছেন তিনি।

[ad_2]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here