জিম্বাবুয়ের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও পরবর্তী সময়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে আর নেই

যমুনা ডেস্ক :

0
42
(FILES) In this file photo taken on August 22, 2013, Zimbabwean then President Robert Mugabe (R), accompanied by wife Grace, raises his fist as he greets the crowd at his inauguration ceremony in Harare at the National 60,000-seat sports stadium. - Robert Mugabe, who led Zimbabwe with an iron fist from 1980 to 2017, has died aged 95, Zimbabwe President Emmerson Mnangagwa announced September 6, 2019. (Photo by ALEXANDER JOE / AFP)

স্বাধীন জিম্বাবুয়ের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও পরবর্তী সময়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে মারা গেছেন। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

এ সময়ে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তার পরিবারের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, মুগাবের স্বাস্থ্যের অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরেই ভালো যাচ্ছিল না।

১৯৮০ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে টানা ৩৭ বছর জিম্বাবুয়ের হর্তাকর্তা ছিলেন মুগাবে। এ সময় কঠোর হাতে দেশ শাসন করেন তিনি।

২০১৭ সালের নভেম্বরে এক সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তাকে উৎখাত করা হয়।

তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন এমনানগাগোয়া এক টুইটে বলেন, গভীর শোকের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের মৃত্যুসংবাদ আমাকে জানাতে হচ্ছে।

এমনানগাগোয়া লিখেছেন, মুগাবে ছিলেন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক, প্যান-আফ্রিকা মতবাদের একজন সমর্থক, যিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন জনগণের মুক্তি আর ক্ষমতায়নের জন্য।

রবার্ট মুগাবে ব্রিটিশ উপনিবেশ রোডেশিয়াকে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু শাসন থেকে মুক্ত করার প্রথম পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি নিপীড়ন ও ভীতিপ্রদর্শনের আশ্রয় নিয়েছিলেন। যদিও তার আগের অনুগত সামরিক জেনারেলরাই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন।

রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর ব্যাপক দমনাভিযানের জন্য তার শাসনামল কলঙ্কিত হয়ে আছে। তার নীতির কারণে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ব্যাপক বিদ্রোহ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় রোডেশিয়া সরকার আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হওয়ার পর সাবেক রাজনৈতিক কারাবন্দী থেকে গেরিলা নেতা মুগাবে ১৯৮০ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন।

এরপর জাতিগত পুনর্মিলনে তার নীতি শুরুতে আন্তর্জাতিকভাবে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কালো সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটেছিল তখন।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিরোধীদের ওপর ধরপাকড়ে সবকিছুই মিইয়ে যায়। গুখুরাহুন্দি নামের অভিযানে ২০ হাজারের মতো রাজনৈতিক বিরোধী হত্যার শিকার হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here