তীব্র গরমে বিশুদ্ধ পানির হাহাকার চলছে মোংলায়, প্রকল্প থেকে ২০ কোটি টাকা লোপাট।

জসিম উদ্দীন, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :

0
207

বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে চরম আকার দেখা দিয়েছে মোংলায়। রোজা রেখে এক কলসি পানির জন্য অনেক দুরদুরান্তে ছুটছে মানুষ। উপজেলার আড়াই লাখ মানুষের পানিয় জলের চাহিদা মেটাতে রয়েছে পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট-প্লান্ট আর ইউনিয়নস গুলোতে কয়েকটি পুকুর।কিন্তু বৃষ্টির দেখা না মেলায় লবণাক্ততা দেখা দিয়েছে আর শুকিয়ে পানি কমে গেছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পুকুরের পানি। আর অনেক আর অনেক আগেই নষ্ট হয়ে পড়েছে জনস্বাস্থ্য বিভাগের তত্তাবধানে থাকা পুকুর গুলোর পানি। বাধ্য হয়ে মানুষ পান করছে লোনা পানি আর পুকুরের ময়লা পানি। এদিকে পৌর শহরের নাগরিকদের পানিয় জলের চাহিদা মেটাতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট দ্বিতীয় প্রকল্পের জন্য বরাদ্ধ হওয়া ২০ কোটি টাকার অধিকাংশ লোপাট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মোংলা পোর্ট পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে বসবাস করে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। পৌরসভার পুরাতন পানির প্রকল্প থেকে সংযোগ পেয়েছে মাত্র দুই হাজার তিনশত পরিবার। বাকি নাগরিকদের পানিয় জলের চাহিদা মেটাতে ২০১৬ সালে শুরু হয় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি পানি প্রকল্পের কাজ।এক বছররের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সমাপ্ত করার কথা। কিন্তু তিন বছর পরেও এখনো প্রকল্পটি বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ পৌর কর্তৃপক্ষের।ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বন্দে জরিয়ে পড়েছে মোংলা পোর্ট পৌরসভা আর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।
এদিকে পানির নতুন সংযোগ পেতে প্রতিদিন পৌরসভায় ভিড় করছে শত শত মানুষ। উপায় না পেয়ে নতুন পানির সংযোগ বন্ধ এমন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে পৌরসভা।বাধ্য হয়ে এখন লবণ আর ময়লাযুক্ত পুকুরের পানি পান করছে প্রথম শ্রেনী ও পৌরসভার নাগরিকরা।বিশুদ্ধ পানির চরম অভাব চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ অনেক সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও।সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।রোজা রেখে বিশুদ্ধ খাবার পানির খোজে তাদের ছুটতে হয় আধা কিলো-এক কিলোমিটার পথ।মোংলা শহরের কুমারখালী এলাকায় পৌরসভার পানির প্রকল্পটি অবস্থিত।দ্বিতীয় প্রকল্পটিও স্থাপনের জন্য পুকুর খনন করা হয় একই এলাকায়।সব ভুমি অধিগ্রহণ করা হয় ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের কাছ থেকে। কুমারখালী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম জানান, তাদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে তারা সরকারকে তাদের সম্পত্তি কম মুল্যে দিয়েছেন।কিন্তু প্রথম প্রকল্প থেকে একটি সংযোগও ১নং ওয়ার্ডে দেওয়া হয়নি। আর দ্বিতীয় প্রকল্প আটকে আছে দুই প্রতিষ্ঠানের দ্বন্দে। একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিয়াকত মুন্সি বলেন, সরকার ২০ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে আমাদের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য। কিন্তু অর্থ বরাদ্ধের চার বছরেও আমরা সংযোগ পাচ্ছিনা।এ বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যান্ত কষ্টের। অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবী করেন তারা।
এদিকে মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মোঃ জুলফিকার আলী জানান, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রথম প্রকল্প থেকে আমরা পৌর এলাকায় প্রায় দুই হাজার তিনশত সংযোগ প্রদান করেছি। এখনো কয়েক হাজার আবেদন পরে আছে।কিন্তু দ্বিতীয় প্রকল্পটির কাজ সঠিক ভাবে সমাপ্ত না হওয়ায় নতুন সংযোগ দেওয়া যাচ্ছেনা। দ্বিতীয় প্রকল্পটির জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্ধ করে সরকার। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিভাগের দূর্নীতির কারণে বরাদ্ধ হওয়া অধিকাংশ টাকা লোপাট হয়েছে। কাজ না করে টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।তিনি আরও জানান, দরপত্র অনুযায়ী পুকুরের গভীরতা ১০ ফিট করার নিয়ম থাকলেও মাটি কাটা হয়েছে মাত্র ৫ ফিট।পুকুর খনন কাজে নিয়োজিত ঠিকাদেরর সাথে আতাত করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সরকারি অর্থ লুটপাট আর ভাগাভাগি করে নিয়েছে।আর এই কারণে ওয়ার্ক ওয়াড়ার অনুযায়ী পুকুর খনন না করে ঠিকাদার জামানত ছাড়াই সব অর্থ উঠিয়ে নিয়েছেন।পৌর মেয়র আরও বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর।
তবে পৌরসভার সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, (বাগেরহাট) দীপক কুমার মন্ডল। তিনি জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিডুয়েল মোতাবেক তাদের কাজ সম্পূর্ণ করেছে। নিয়ম অনুসারে প্রতিষ্ঠানটি বিল তুলতে পারবে, তাই তাদের বিল দেওয়া হয়েছে। জনসাধারনের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে দ্বিতীয় প্রকল্পটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here