নন্দীগ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি:

0
86

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী ফোক্কারের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ই অক্টোবর) বেলা ১১টায় কুন্দারহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ই অক্টোবর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় “অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে কোনঠাসা ত্যাগী নেতারা” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী ফোক্কারের নাম জড়িয়ে অসত্য ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জুলফিকার আলী ফোক্কার বলেন, গত ১২ই অক্টোবর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত ‘‘অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে কোনঠাসা ত্যাগী নেতারা’’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। যা আমাকে অপমান-অপদস্ত করার হীন চক্রান্ত বলেই আমি ধারনা করছি। আমার সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ক্রমাগত আমার নামে মিথ্যা প্রচারণা ছড়াচ্ছে। এরা নিজেরা জামায়াত, জাতীয় পাটি, জাসদ ও বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে নিজেদের ক্ষমতা অটুট অক্ষুন্ন রাখতে ত্যাগী নেতাদের কোনঠাসা করার জন্য নানারকম মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।

আমি উক্ত মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার বরাবরই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমি কখনোই জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম না। আমি ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ও সর্বসম্মাতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হই। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি দলীয় প্রার্থী হিসাবে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। বিগত ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ’র পক্ষে ভোট করি। যার সত্যতা স্বয়ং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন।

২০১৩ সালের ৩রা মার্চ সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজব কেন্দ্র করে আমার ইউনিয়নের জামায়াত জঙ্গি ও বিএনপি জোট সন্ত্রাস ভাংচুর লুটপাট অগ্নিসংযোগ ও রাস্তায় গাছ কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগীতা করার চেষ্টা করি। এত কিছু করার পরেও আমাকে নৌকার বিরোধীতাকারী বলে সংবাদ প্রকাশ করাটা ঠিক হয়নি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদেরকে বিনীতভাবে একটি কথা জানাতে চাই যে, হিংসার রাজনীতিতে গা ভাসাতে রাজি হইনি বলেই আজ আমার নামে আমাদেরই একটি প্রতিপক্ষ মিথ্যা তথ্য দিয়ে আপনাদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও যখন তাদের সাথে রাজনৈতিক সখ্যতা ছিল তখন আমার নামে এরকম কথা কেউ উপস্থাপন করেনি। অথচ যখনই তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে আমি নিজেকে তাদের কাছ থেকে দুরে সরে এসে গঠনমূলক ও আদর্শিক রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করি তখনই তারা আমার নামে নানামহলে নানারকম মিথ্যা প্রোপ্রাগান্ডা ছড়াতে মরিয়া হয়ে উঠে।

এক সময় প্রকাশ্য জনসভায় যে ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নোংরা অশালিন কটুক্তি করতো সেই ব্যক্তিই এখন নন্দীগ্রামে আওয়ামী লীগের হর্তাকর্তা হয়ে ত্যাগী নেতাদের কোনঠাসা করার অপচেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান এবং দলীয় ত্যাগী নেতাদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালিয়েছিল। নন্দীগ্রামে রাজনীতিতে কারা নবাগত, কারা দলত্যাগী আর কারা অনুপ্রবেশকারী তা সবাই জানে। কিছুদিন আগেও যারা নেত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদানের সুযোগ করে দিয়েছে। তারাই আজ দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এদেরকে সবার চিনে রাখার প্রয়োজন।

নেত্রীর নির্দেশে হয়তো আগামী কিছুদিনের মধ্যেই উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এসব কমিটি গুলোতে যেন অন্যদল থেকে আসা সুযোগ সন্ধানী হাইব্রিডরা স্থান করে নিতে না পারে এ ব্যাপারে আপনাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

এসময় আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, খোরশেদ আলম, আব্দুল হাকিম, হাবিবুর রহমান, আকরাম হোসেন, কায়জার আলম ও উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি এমআর জামান রাসেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here