নির্বাচনের আগে ঢাকা সফরে আসছেন মোদী

0
318


আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ ও ভুটান সফর করতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চলতি বছরেই ভারতের প্রতিবেশী এই দুই রাজ্যে সাধারণ নির্বাচন। তাই তার আগে ঢাকা ও থিম্পুর প্রতি নিজেদের সমর্থন জানাতেই এই সফরের পরিকল্পনা মোদী সরকারের।

ইকোনমিক টাইমস বলেছে, দিল্লিতে ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স সামিটে যোগ দিতে এসেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তার সঙ্গে মোদীর বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই দুই দেশের মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনের সূত্র খোঁজা হবে এবং এখানেই ঠিক হবে কবে নাগাদ মোদী ঢাকা সফর করবেন।

একদিকে ভুটানে ভারতের প্রচেষ্টায় নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে বহু প্রতিক্ষীত তিস্তার পানি চুক্তির বাস্তবায়নের জন্য দিল্লির দিকে তাকিয়ে রয়েছে ঢাকা। কারণ এই চুক্তি হলে বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা অনেকটাই বাড়বে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও সূত্রে খবর চলতি বছরের প্রথম অর্ধেই এই সফর হতে পারে।

সেক্ষেত্রে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত ভুটানে চীনের আগ্রাসন ও বাংলাদেশে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার মধ্যেই মোদী ওই দুই দেশে সফর করবেন।

তবে শুধু ভুটান বা বাংলাদেশই নয়, আগামীতে নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে উদ্যোগী মোদী। গত বছরের শেষের দিকে নেপালে নতুন সরকার গঠনের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও.পি.কোলিকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদী। এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কোলির প্রথম বিদেশ সফরকে স্বাগত জানাতে তৈরি ভারতও। পাশাপাশি চতুর্থ বিমস্টেক সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি বছরেই মোদী নিজেই কাঠমান্ডু সফর করতে পারেন বলে খবর।

মোদীর প্রস্তাবিত এই ঢাকা সফর যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। আশা করা হচ্ছে এই সফরেই তিস্তার জট ছাড়াতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে কোনো কৌশলগত প্রস্তাব দিতে পারেন। কারণ নির্বাচনের মুখে তিস্তা সমস্যা সমাধানের কোনো সূত্র বেরিয়ে এলে তা আদতে বাংলাদেশের শাসকদল আওয়ামী লীগের হাতই শক্ত হবে বলে মনে করছে দিল্লি।

এর আগে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথবারের জন্য ভুটান সফরে গিয়েছিলেন মোদী। পরের বছরই ঢাকায় সরকারি সফরে যান তিনি। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা হয়। মোদী সরকারের আমলেই ২০১৫ সালে ৬৪ বছরের পুরনো স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন হয়েছে। তারও আগে ২০১৩ সালে ইউপিএ শাসনকালে দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়। ভিসার সরলীকরণের ফলে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতও সহজতর হয়েছে। কিন্তু কাঁটা হয়ে রয়েছে সেই তিস্তা। তাই নির্বাচনের আগেই তিস্তা ইস্যুতে সমাধান সূত্র খুঁজতে ফের একবার উদ্যোগী হতে পারে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here