নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ফেয়ার হয়নি: অ্যালেন শুভ্র

[ad_1]

নাট্যপরিচালক নিয়াজ মাহবুবকে ইট দিয়ে আঘাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আচরণ সংশোধন করে পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে জনপ্রিয় অভিনেতা অ্যালেন শুভ্রকে তিন মাস নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিভি নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন সংগঠন। তাদের এই সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন এই অভিনেতা।  ৮ এপ্রিল,রোববার দুপুরে অ্যালেন এই মন্তব্য করেন।
অ্যালেনের ভাষ্য, নির্মাতাকে শারীরিকভাবে আঘাত করায় অন্যায় হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন। তবে ঠিক সময়ে পারিশ্রমিক পাননি বলেই মেজাজ হারিয়ে এমনটি করেছেন। এরপরও যে শাস্তি ঘোষণা হয়েছে, সেটি শুনে তিনি অবাক হয়েছেন।
টেলিভিশন নাটকের তিন সংগঠন ‘ডিরেক্টরস গিল্ড’, ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ’ ও ‘টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ শুভ্রকে তিন মাসের জন্য নাটকে নিষিদ্ধ করে। বিষয়টিকে একপক্ষীয় দাবি করে অ্যালেন শুভ্র বলেন, ‘পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আমার ক্যারিয়ারের ওপর সবার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতেই ঘটনার বহুদিন পরে এই সময়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কারণ তারা সবাই জানে, আমি অভিনয় ছাড়া আর কিছুই করি না। আমার এত দিনের ক্যারিয়ার, অথচ কোনোদিন কোনো পরিচালকের সঙ্গে আমার এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক শনিবার জানিয়েছিলেন, নিয়াজ মাহবুবের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ এপ্রিল টিভি নাটকের সংগঠন তিনটি এক সভায় বসে। এরপর শুভ্রর বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে অ্যালেনের হাতে থাকা কাজগুলো যাতে গুছিয়ে নিতে পারেন, সে জন্য তাকে কয়েকটা দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
টিভি নাটকের তিন সংগঠন সূত্রে জানা যায়, অ্যালেন শুভ্রর বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা ১০ মে থেকে কার্যকর হবে।
অ্যালেন শুভ্র বলেন, ‘একজন নির্মাতা হিসেবে সে কখনোই এটা করতে পারে না যে, একজন অভিনেতার ন্যায্য পারিশ্রমিক দিবেন না। যেটা আমার প্রাপ্য, সেটা তো আমাকে দিতে হবে। সে দাবি করছে, আমার কারণে তার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু একজন নির্মাতা যখন তার দোষ আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দেয়, তখন সেটা নিয়ে আর কী-ই বা বলার থাকে।
আমার কথা হলো সবাই যদি পারিশ্রমিক পায়, তাহলে আমি কেন পাব না? যাই হোক, তারপরও আমি এক বছর অপেক্ষা করেছি। কিন্তু নির্মাতা ও আমি একই এলাকায় থাকার কারণে তার সম্পর্কে আমি সবকিছুই জানি। সে-ও আমার সম্পর্কে জানে। তার কাছে যদি নিয়মিত মদ্যপান করার টাকা থাকতে পারে, আমার পারিশ্রমিক না দেওয়ার কোনো কারণ তো দেখছি না।’
ডিরেক্টরস গিল্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ‘গুরাগারা’ নামের একটি পাঁচ পর্বের নাটকের শুটিংয়ে বরিশালে যান অ্যালেন শুভ্র। ওই সময় তার সঙ্গে আলোচনা করেই শিডিউল নেন নির্মাতা। শুটিং শেষ করে ঢাকায় ফেরার দিন নির্মাতা আরেকটু কাজ বাকি রয়েছে বলে রাত ১১টায় অ্যালেনকে বাসে করে ঢাকায় ফেরার অনুরোধ করেন। কিন্তু পরের দিন অন্য একটি নাটকের শুটিং থাকায় অ্যালেন লঞ্চে করে ঢাকায় ফেরেন।
ঢাকায় এসে নির্মাতা তার নাটকের বাকি অংশের শুটিং করেন। আর অ্যালেন তার কাছে পারিশ্রমিক দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বচসা হয়।
এক বছর পর ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি রাতে মগবাজারে নির্মাতার সঙ্গে অভিনেতা অ্যালেনের দেখা হয়। তখন কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নির্মাতাকে ইট দিয়ে আঘাত করেন অ্যালেন।
ছোটপর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ‘তিনটি সংগঠনের এ ধরনের একপক্ষীয় সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছি। এটা ফেয়ার হয়নি। ঘটনাটা তো শুধু আমার একার কারণে ঘটেনি। আমাকে যেহেতু শাস্তি দেয়া হয়েছে, নির্মাতাকেও শাস্তি দেয়া হোক। আর ঘটনার সূত্রপাতটা কিন্তু প্রথম নির্মাতার দিক থেকেই শুরু হয়েছে। আর আমি খুব অবাক হয়েছি।
সালিশি সভায় নির্মাতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে কোথাও বরিশালে শুটিংয়ের কোনো কথা লেখা নেই। তাই সংগঠনগুলো যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিকে আমি সম্মান জানাই। কিন্তু আমি তার সঙ্গে একমত নই। বিষয়টা অনেকটা এমন, গায়ে হাত তোলা হয়েছে, ওকে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু গায়ে হাত তোলার কারণটা কী, সেটি নিয়ে ওভাবে আলোচনাই হয়নি। শাস্তি যদি পেতে হয়, তাহলে তো বিচারটি স্বচ্ছ হতে হবে।’
অ্যালেন শুভ্র প্রশ্ন করে বলেন, ঘটনা গত বছরের ডিসেম্বরের। কিন্তু সেই সময়ে বিষয়টি নিয়ে বসা হয়নি। ঈদকে সামনে রেখে বিষয়টি পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে।
‘আমি তো অভিনয় ছাড়া আর কিছু করি না। আমার কথা হলো, আমি ভুল করেছি, ঠিক আছে, শাস্তি পেতে হবে। কিন্তু নির্মাতাকে শাস্তি না দিলে বিষয়টি তো একপক্ষীয় হয়ে যায় না?’, বলেন অ্যালেন।
গত বুধবার ডাকা সালিশি সভায় টেলিভিশন নাটকের তিন সংগঠন অ্যালেনকে গুরাগারা নাটকের ৫০ শতাংশ পারিশ্রমিক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে পরিচালক নিয়াজ মাহবুব বলেন, ‘শাস্তির বিষয়টা আমার জন্যও বেশ কষ্টের। খারাপও লাগছে যে, ওর মতো একজন তরুণ অভিনেতা তিন মাস কোনো ধরনের কাজ করতে পারবে না। ও যদি বিচারের দিন আমার কাছে এসে বলত, ভুল করেছি, স্যরি, তাহলে ওকে আমি সেদিন ক্ষমা করে দিতাম।
আমরা সবাই একই মিডিয়ামে কাজ করি। কিন্তু আমি চাইলেই তো সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বিচারকরা যেহেতু এই সিদ্বান্ত নিয়েছেন, তাই আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। একজন শিল্পী ভুল করতে পারে। তবে সেটা আবার মার্জনীয়ও হতে পারে।’

[ad_2]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here