পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে জিপিএ-৩.৫৬

স্টাফ রিপোর্টার :

0
52

পা দিয়ে লিখে এসএসসিতে পরিক্ষায় জিপিএ-৩.৫৬ পেয়েছেন প্রতিবন্ধী ফজলুর রহমান।

জন্মগতভাবে দুই হাত ও এক পা নেই। এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়েই তার চলাফেরা। নেই পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যও। কিন্তু প্রবল ইচ্ছা তার পড়াশোনা করার। তাই ওই পা দিয়েই চলে লেখার কাজও। শুধু তা-ই নয়, এই এক পা দিয়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে যেতে হয় স্কুলে।

কিন্তু কোনো প্রতিকূলতাই হার মানাতে পারেনি তাকে। ইচ্ছাশক্তি আর মানসিক দৃঢ়তা প্রবল থাকলে যে দারিদ্র্য ও শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে হার মানানো সম্ভব, সেটা প্রমাণ করেছে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির শারীরিক প্রতিবন্ধী ফজলুর রহমান।

বেলকুচির ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের চরগোপালপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মিটুয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ফজলুর রহমান এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫৬ পেয়ে পাস করেছে।
ফজলুর রহমানকে স্কুলে নিয়ে যেত তার ছোট বোন আসমা। সেও এবার এসএসসিতে জিপিএ-৩.০৬ পেয়েছে।

হতদরিদ্র পরিবারের এই দুই ভাইবোনের সাফল্যে তার পরিবারের লোকজন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সহপাঠীসহ গোটা গ্রামবাসী আনন্দে মেতে উঠেছে।
ফজলুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে স্কুলে গিয়েছি। আমার বই-খাতা-কলম ছোট বোন আসমা নিয়ে গেছে। যেদিন আমার ছোট বোন স্কুলে যায়নি, সেদিন আর কেউ আমার বই নেয়নি। ফলে সেদিন আর আমার স্কুলে যাওয়া হয়নি। আবার বৃষ্টির দিনেও স্কুলে যেতে পারিনি। সবার দোয়া ও সহযোগিতায় আমি এ ফলাফল করতে পেরে খুবই খুশি।

তবে অর্থের অভাবে এইচএসসিতে ভর্তি হতে পারব কি না তা এখনো জানেনা ফজলুর ?
ফজলুরের বাবা সাহেব আলী বলেন, আমি একজন হতদরিদ্র দিনমজুর, ক্ষেত-খামারে কামলা দিয়ে যা পাই তা দিয়ে অভাব-অনটনের সংসারই ভালোভাবে চলে না। তার ওপর প্রতিবন্ধী ছেলে ও মেয়ের ভরণ-পোষণ কষ্টসাধ্য।’ তিনি আরো বলেন, ‘টাকার অভাবে ফজলুকে কোনো দিন প্রাইভেট পড়াতে পারিনি। অনেক সময় বইও কিনে দিতে পারিনি। ফজলুর নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড আছে। ওখান থেকে যে টাকা পায়, তা দিয়েই ওর লেখাপড়ার খরচ চলে। আমার কোনো জমিজমা নেই। ৪ শতাংশ বাড়ির ভিটায় ভাঙা ঘরে ওদের নিয়ে কোনোরকমে বসবাস করি। ৯ সদস্যের সংসার আমার একার উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। ছোট মেয়ে আসমাই ফজলুরকে স্কুলে যেতে সাহায্য করে। সাহেব আলী আরো জানান, তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে তাঁতের কাজ করে।
ফজলুর মা সারা খাতুন বলেন, ‘২০০০ সালে ফজলু বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম নেয়। আমরা স্বামী-স্ত্রী কেউ লেখাপড়া জানি না। ছোট মেয়ে আসমা ফজলুকে লেখাপড়ায় সাহায্য করে। ফজলু কিছু কাজ নিজেই করতে পারে, কিছু কাজে তাকে সাহায্য করতে হয়।

মিটুয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, ‘২০১৪ সালে ফজলুর এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সে লেখাপড়ায় ভালো, স্মরণশক্তিও তার প্রখর। তারা দুই ভাইবোনই আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থী। তারা পাস করায় আমরা সবাই খুশি।

এ ব্যাপারে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, ফজলুর রহমানের লেখাপড়ার প্রবল ইচ্ছা দেখে ফেসবুকের মাধ্যমে ৭৬ হাজার টাকা অনুদান তুলে দিই। এ টাকা দিয়েই তার এত দিন লেখাপড়া চলেছে। তার আরো লেখাপড়ার ইচ্ছা রয়েছে। সাহায্য-সহযোগিতা পেলে সে আরো ভালো রেজাল্ট করতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here