Saturday, October 23, 2021
Homeখবরপ্রতিদিন ডিমে কমবে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

প্রতিদিন ডিমে কমবে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

[ad_1]

ডিমের পুষ্টিগুণ আমাদের সকলের জানা। উচ্চ প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ; কী নেই ডিমে! ডিম আমাদের সারাদিনের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে। তাই বলা হয় ‘পাওয়ার হাউস’।

রোগ প্রতিরোধে ভীষণ কার্যকর ভূমিকা রয়েছে ডিমের। এরপরও অনেকের ধারণা, নির্দিষ্ট বয়সের পর ডিম খাওয়া বন্ধ করা দরকার। কারণ, এ নাকি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রতিদিন একটা করে ডিম খেলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। সম্প্রতি করা এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডিম থেকে শারীরিক উপকার পেতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে হবে।

চীনের একদল গবেষক সম্প্রতি ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে একটি গবেষণা চালান। এতে তারা দেখেন, যারা দিনে একটি করে ডিম খান, তাদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি যারা খায় না তাদের চেয়ে ১৮ শতাংশ কম থাকে। প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক লোকের ওপর গবেষণা করে এ তথ্য জানিয়েছেন গবেষকেরা।

স্বাস্থ্য বিষয়ক ‘হার্ট’ সাময়িকীতে ২১ মে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

ইংল্যান্ডে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিটা ফরুহি বলেছেন, পুষ্টি সংক্রান্ত নানা গবেষণায় অনেক সময়ই কিছু না কিছু ফাঁক থেকে যায়। কিন্তু চীনে বড় এই সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে চালানো গবেষণা থেকে অন্তত একটা বিষয় পরিস্কার যে প্রতিদিন একটা ডিম খেলে তার থেকে হৃদযন্ত্র বা শরীরের রক্ত সঞ্চালনে কোনো ঝুঁকি তৈরি হয় না, বরং প্রতিদিন একটা ডিম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

বহুদিন পর্যন্ত ডিমকে ‘শরীরের শত্রু’ বলে প্রচার করা হয়েছে। ডিম স্যালমোনেলা জীবাণুর উৎস, ডিম শরীরে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। এখন বেশিরভাগ ডাক্তারই স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় ডিম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলেন, বেশিরভাগ পুষ্টিকর উপাদান প্রাকৃতিকভাবে যেসব খাবারে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম হল ডিম।

ডিমে আছে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি এবং বি-টুয়েলভ্। এছাড়াও ডিমে আছে লুটেইন ও যিয়াস্যানথিন নাম দুটি প্রয়োজনীয় উপাদান যা বৃদ্ধ বয়সে চোখের ক্ষতি ঠেকাতে সাহায্য করে।

চীনের ১০টি পৃথক প্রদেশের ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী চার লাখ ১৬ হাজার বাসিন্দার উপর নয় বছর ধরে সমীক্ষা চালানো হয়। ওই সমীক্ষায় অংশ নেয়াদের মধ্যে ১৩ শতাংশ জানান, তারা প্রতিদিন ডিম খান। ৯ শতাংশ জানান, তারা মাঝেমধ্যে ডিম খান।

ফলো-আপ করার পর দেখা যায় ৮৩ হাজার ৯৭৭ জন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে ৯ হাজার ৯৮৫ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে আবার ৫ হাজারের মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে।

ফলাফলে দেখা যায়, যারা প্রতিদিন ডিম খেয়েছেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি সার্বিকভাবে কম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিন একটি ডিম স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয় আর স্ট্রোকে মৃত্যুর ঝুঁকি ২৮ শতাংশ পর্যন্ত কমায় এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

ব্রিটিশ হার্ট ফাউণ্ডেশন নামে একটি সংস্থা বলেছে, কোলেস্টেরল বিষয়ে নতুন যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে তার আলোকে সপ্তাহে তিনটির বেশি ডিম না খাওয়ার যে পরামর্শ তারা ২০০৭ সালে দিয়েছিল, তা তারা তুলে নিচ্ছে।

ব্রিটেনের চিকিৎসকরা বলেছেন, ডিমে যদিও কিছু কোলেস্টেরল আছে, কিন্তু আমরা অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় যেসব পদার্থ এর সঙ্গে খাই (যেগুলো স্যাচুরেটেড ফ্যাট নামে পরিচিত) সেগুলো রক্তে কোলেস্টেরলের যতটা ক্ষতি করে, ডিমের কোলেস্টেরল সে ক্ষতি করে না।

[ad_2]

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments