বিশিষ্ট ক্রীড়া ভাষ্যকার বদরুল হুদা চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী

খেলাধুলা ডেস্কঃ

0
17

বিশিষ্ট ক্রীড়া ভাষ্যকার, ভাষা সৈনিক, সাংবাদিক ও ক্রীড়ালেখক বদরুল হুদা চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১০ আগস্ট ২০১৯)। ৮৪ বছর বয়সে ২০১৪ সালের এইদিনে বার্ধক্যজনিত রোগে চট্রগ্রামের নিজ বাসভবনে মারা যান তিনি। তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ১৯৩০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চট্রগ্রামের মিরেরসরাইয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালে দৈনিক আজাদের উপ-সম্পাদক হিসেবে তিনি শুরু করেছিলেন সাংবাদিকতা। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি কাজ করেছেন ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, ইনকিলাব, সংবাদ, বাংলার বাণী ও দৈনিক পূর্বদেশের মতো দেশের বড় বড় পত্রিকায়। সংস্কৃতিমনা এই মানুষটি বেতারে নিয়মিত সংবাদ পাঠ করতেন, রম্য রচনা লিখতেন এবং পাঠ করতেন।
পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকে বাংলাদেশের ক্রীড়া ধারাবর্ণনা ও ক্রীড়া সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন বদরুল হুদা চৌধুরী। চট্রগ্রামের এই কৃতি সন্তান ছিলেন ভাষা সৈনিক। ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলায় বেতার এবং টেলিভিশনে তাঁর সুমিষ্ট কন্ঠে ক্রীড়া ধারাবর্ণনা শুনেছেন দেশবাসী। হয়তো নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাঁর নাম শোনেননি কিন্তু মধ্য বয়সী ও প্রবীনরা যারা তাঁর ধারাভাষ্য শুনেছেন, সবাই তাঁকে শ্রদ্ধাভরে মনে রেখেছেন। ক্রিকেটই ছিল তাঁর ভাললাগা এবং ভালবাসা। তাইতো তাঁর রচিত তিনটি উপন্যাসের প্রত্যেকটিই ক্রিকেট কেন্দ্রিক। তার রচিত গ্রন্থ তিনটি হলো- তবু ক্রিকেট ভালবাসি (১৯৬৬), দুটি ব্যাট একটি বল (১৯৬৭) এবং রুপে-রসে ক্রিকেট (১৯৯৪)। মুল ধারার সাংবাদিকতাই ছিল তার পেশা। তবে নিয়মিত ক্রিকেট ও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে কলাম লিখতেন। বেতারে সংবাদ পাঠক হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। ষাটের দশকে যাদের হাত ধরে এ অঞ্চলে বাংলা ক্রীড়া ধারাবর্ণনা শুরু হয়েছিল তাদের অন্যতম হলেন আবদুল হামিদ, আতিকুজ্জামান খাঁন এবং বদরুল হুদা চৌধুরী। পরবর্তিতে ১৯৬৩-৬৪ সালে বেতারে শুরু করেন ক্রীড়া ধারাবর্ণনা। একইসাথে বেতার ও টিভিতে ক্রীড়া ভাষ্যকার হিসেবে সুনামের সাথে প্রায় ৩০ বছরব্যাপী কাজ করেছেন বদরুল হুদা। ১৯৬৭ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এমসিসি বনাম পাকিস্তান একাদশের তিনদিনের আনঅফিসিয়াল টেষ্ট ম্যাচে এবং ১৯৬৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানের টেষ্ট ম্যাচে ধারাভাষ্য প্রদান করেন তিনি।
বাংলাদেশের কমেন্টেটরগণ বদরুল হুদা চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here