বড় বড় দুর্নীতি যে সরকার করেছে ওবায়দুল কাদেরের কথায় সেটি প্রমাণিত : খন্দকার মোশাররফ

যমুনা ডেস্ক :

0
81

‘বালিশ-পর্দা দুর্নীতি ছিঁচকে কাজ’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এর (বালিশ-পর্দাকাণ্ড) থেকে বড় বড় দুর্নীতি যে সরকার করেছে ওবায়দুল কাদেরের কথায় সেটি প্রমাণিত।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি কোনো ক্ষেত্রেই এই সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। অর্থনৈতিক, আইনের শাসন, বিভিন্ন প্রকল্প- কোনো ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ নেই। যদি থাকত তা হলে বালিশ-পর্দার মতো দুর্নীতি হতে পারে না। আর এই দুর্নীতির পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজে বলেছেন, বালিশ–পর্দা কেনায় দুর্নীতি ছিঁচকে কাজ। এ কথার মাধ্যমে তিনি স্বীকার করেছেন, এর থেকে বড় বড় দুর্নীতিও সরকার করছে।

মহাসড়কের টোল আদায়ের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের টাকায় নির্মিত সড়কে জনগণ চলাচল করবে। সেখানে কেন তারা টোল আদায় করবে? আর সড়কে যেসব গাড়ি চলে সব গাড়িই তো সরকারকে ট্যাক্স দেয়। বিদেশে বিভিন্ন সংস্থা রাস্তা নির্মাণ করে, তারা টোল আদায় করে সেই টাকা তুলে নেয়। কিন্তু আমাদের দেশের মহাসড়কগুলো তো জনগণের টাকায় বানানো হয়, তা হলে টোল আদায় করবে কেন?

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আজকে বাংলাদেশ থেকে মুদ্রাপাচার হয়ে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জনগণকে ভয় পেয়ে গেছে। তাই তারা টাকা বিদেশে পাচার করে নিচ্ছে। বিদেশে বাড়ি কিনছে, বেগমপাড়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম হচ্ছে, সুইস ব্যাংকে টাকা বাড়ছে। অতএব এর থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ পরে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা আইনিভাবে লড়াই করছি। স্বাভাবিকভাবে এসব মামলায় সাত দিনের মধ্যে জামিন হওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। তাই তার মুক্তির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।

খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের মা আখ্যায়িত করে মোশাররফ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। খালেদা জিয়া এ দেশের গণতন্ত্রের প্রতীক, গণতন্ত্রের মা- মাদার অব ডেমোক্রেসি।

তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই- জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। খালেদা জিয়া স্বৈরাচারকে হটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই জন্য আজকে যারা ক্ষমতায়, তারা গণতন্ত্রের বিষয়ে ভীতু। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। সে জন্য ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট ডাকাতি হয়ে গেছে।

একতরফা নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করার জন্য আমাদের নেত্রীকে জেলে নিয়ে রেখেছে। নেত্রীর কথামতো আমরা নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সেই নির্বাচনে ৮০ ভাগ লোক ধানের শীষে ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তখনই ২৯ ডিসেম্বর রাতে জনগণের ভোট ডাকাতি হয়ে গেল। গণতন্ত্রে পক্ষে বিএনপি, আর আওয়ামী লীগ বারবার প্রমাণ করেছে- তারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে না। আজকে প্রধান বিষয় হচ্ছে- গণতন্ত্র; আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে না পারলে দেশের এই অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ পাব না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here