মোংলা থেকে বিদায় নিচ্ছেন মানবিক ইউএনও রাহাত মান্নান

জসিম উদ্দিন, বাগেরহাট ব্যুরো :

0
175

ইউএনও মোঃ রাহাত মান্নান মোংলা উপজেলায় যোগদানের পর নিজের দক্ষতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে একের পর এক ভাল কাজ করেছেন আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্থাপন করেছেন মানবতার এক অন্যন্য নজির।

করোনায় মানবিক দায়িত্ব পালন করে তিনি উপজেলার সব মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। স্থান করে নিয়েছেন সব শ্রেনি পেশার মানুষের মনে। ২০১৯ সালের ২৬ মে মোংলা উপজেলায় যোগদানের পর ১৪ মাস দায়িত্ব পালনের পর তিনি সম্প্রতি পদোন্নতি জনিত কারনে গাইবান্দা জেলায় বদলী হয়েছেন। ঈদের পরে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা রয়েছে তার।

মোংলায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে অসংখ্য ভাল কাজের অনুস্বরনীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তিনি। বিদায় বেলায়ও মানবিক কাজ করে যেতে ভূলে যাননি সরকারের মাঠ পর্যায়ের এই চৌকুস কর্মকর্তা। তার চলে যাওয়ার মূহুর্তেও গেল রবিবার (২৬ জুলাই) উপজেলায় গৃহহীন একশ পরিবারকে (প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্ধের) নতুন করে তৈরী করে দেয়া ঘর বুঝিয়েদেন।

মোংলা উপকুলীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় গভীররাত পর্যন্ত উপজেলার ক্ষয়ক্ষতির আশংখ্যায় থাকা এলাকা গুলোর মানুষদের নিরপদ আশ্রয়ে পাঠাতে গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে গ্রামে গ্রামে গুরে বেড়িয়েছেন। এর পর আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের সরকারী সহায়তা দিতে অগ্রনী ভুমিকা রেখেছেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্নয় করে পাঠিয়েছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। ওই সময়ে সরকারী বরাদ্ধের ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ৬৬ মেট্রিক টন চাউল, একশ বান্ডিল ডেউটিন ও নগদ তিন লক্ষ টাকা দ্রুত সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মাঝে শুষম বন্টন করেছেন।

করোনা পরিস্থিতিতে মোংলায় আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানো, হোমকোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, মোবাইলে অসহায় কর্মহীন মানুষের ফোন পেয়ে গোপনে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সহ নানা ধরনের মানবিক কাজ করেছেন তিনি। দেশে করোনা প্রাদূর্ভাবের শুরু থেকে তিনি উপজেলার মানুষকে ঘরে থাকতে বারবার অনুরোধ করে যাচ্ছিলেন, প্রতিদিন উপজেলার বাজারহাটসহ সমস্ত এলাকায় ছুটে বেরিয়েছেন। সরকারী নির্দেূমনা ভঙ্গ করার কারনে চালিয়েছেন একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত।

করোনাকালে ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যের দাম বেশী নিতে না পারেন-সে জন্য তিনি উপজেলার বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করেন। শুধু তাই নয়,তিনি করোনায় আক্রান্ত ওসুস্থদের উপযোগী বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। বিভিন্ন ঈদ বা যে কোন উৎসবের সময় নিজের বেতনের টাকা দিয়ে ভাসমান ছিন্নমূল মানুষদের সহায়তা করতে দেখা গেছে।

উপজেলা সুত্রে জানাযায়, করোনাকালীন সময়ে গেল ৩০ জুন পর্যন্ত মোংলা উপজেলায় ২১ হাজার ৩শ” পরিবারকে চাল ও নগদ অর্থ,২ হাজার পরিবারকে শিশু খাদ্য,২শ” পরিবারকে শুকনো খাবার,২ হাজার ৫শ” টাকা হারে ৭ হাজার ৪শ” পরিবার কে সহায়তা করা হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি বাল্যবিয়ে ও যৌতুক প্রথা বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সরকারি জমি উদ্বার এবং মাদক নির্মূলে একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ইউএনও মোঃ রাহাত মান্নান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি যেখানেই থাকি মানুষের জন্য কাজ করে যাব। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উদ্যোগ সফল করতে আমি অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাব। এতে যত বাধাই আসুক পিছপা হবনা। তিনি আরো বলেন, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সহযোগীতা করার জন্য বিদায় বেলায় মোংলা উপজেলা বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন তিনি।

মোংলা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও ক্রিড়া পরিষদের আহবায়ক শেখ কামরুজ্জামান জসিম বলেন, ইউএনও মোঃ রাহাত মান্নান একজন ক্রীড়ামোদী মানুষ ছিলেন, তিনি উপজেলার দায়িত্বপালন কালে খেলাধুলার মান উন্নোয়নে নানা অবদান রেখেছেন তিনি। মোংলায় একটি পরিত্যাক্ত সিনেমা হলকে তিনি ইনডোর বানিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়া সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নে তিনি সব সময় সক্রিয় ছিলেন। সারা বাংলাদেশে প্রজাতন্ত্রের এমন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে থাকলে সরকারী সকল নির্দেশনা সঠিক ভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করেন তিনি।এছাড়াও তিনি যেখানে যাবেন সেখানে ক্রীড়াঅঙ্গনের ব্যাপক উন্নোতি হবে বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়াও মোংলার বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউএনও মোঃ রাহাত মান্নান কে। বাংলাভিশন টেলিভিশনের সাংবাদিক, মোংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন মোংলা শাখার উপদেষ্টা মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে মোঃ রাহাত মান্নান নজির স্থাপন করেছেন। সরকারী নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি মানবিক নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেনী পেশার মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here