ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টাকা আত্মাসাৎ করে বদলি : সার্ভিসবুক হারানো রহস্যজনক

এম এ আজিজ, স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

0
279

একই নামের ভিন্ন বিদ্যালয়ের টাকা নিজ বিদ্যালয়ের একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে আত্মাসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পত্র দেয়ার পরও ওই বিদ্যালয়ের টাকা ফেরত না দিয়েই এ প্রধান শিক্ষক বদলি হয়ে চলে গেছেন রাজধানী ঢাকায়। এ ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। এছাড়াও সার্ভিস বুক হারানো নেপথ্যে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে ফাঁকিবাজির আসল রহস্য।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট এসব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন। তিনি বলেন, টাকা ফেরতের জন্য পত্র দেয়া হয়েছে এবং মৌখিক তাগিদা দেয়া হলেও টাকা ফেরত দেননি।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের গোপন তদন্ত ও পত্রাদেশে জানা গেছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ৪৫নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন দিলরুবা ইয়াসমিন। এ বিদ্যালয়ে ছিলেন ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০১৮-১৯অর্থবছরে ১৩৯নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্স খাতের ৪০ হাজার টাকা ভুলক্রমে ৪৫নং পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাউন্টে চলে আসে। বিধিবহিভূতভাবে প্রধান শিক্ষক এ টাকা উত্তোলনও করেন। এরপর বদলি হন ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি বদলি হন, ঢাকা মিরপুরের তাফালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

টাকা ফেরতের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার একাধিকবার মৌখিক তাগিদা দেন। এতেও টাকা ফেরত না দেয়ায় গত ৫ আগস্ট পত্রাদেশ জারি করেন, ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত দেয়ার। এই পত্রাদেশও মানলেন না এ প্রধান শিক্ষক। এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, আমি আমার বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত রুটিন মেইনটেন্স খাতের ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে কাজ সম্পূর্ণ করেছি। অন্য বিদ্যালয়ের কোন টাকা এ একাউন্টে আসেও নাই, উত্তোলনও করি নাই।

অপরদিকে ‘সার্ভিস বুক হারানো’ গল্পে বেড়িয়ে এসেছে গোপনরহস্য! প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন ২০১৩ সালের ২০জুন। সার্ভিস বুক হারানো সংক্রান্ত জিডি করেন গৌরীপুর থানায় ২০১৭সালের ৯জুলাই, জিডি নং ৩০২। ২০১৮সালের ৩১ জানুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের আদেশে তৎকালিন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান ওই বছরের ৩০ জুন নতুন সার্ভিস বুক খোলে দেন। সার্ভিস বুক হারানো গল্পে বেড়িয়ে আসে গোপন রহস্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই সার্ভিস বুকে ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪২ দিনের চিকিৎসা ছুটি, ২০১৫সালের ১- ১০জানুয়ারি পর্যন্ত বিনাবেতন ছুটি, একই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মে পর্যন্ত ৭২দিন ছুটি, ১১আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪০দিনের ছুটি ফাঁকি দেয়া হয়েছে এ সার্ভিস বুকে।

শুধু এক বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে সরকারি ও অফিসিয়াল ছুটি ব্যতিত ১২২ দিন ছিলেন ছুটিতে তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, আমার সার্ভিস বুক অফিস থেকে হারিয়েছে, আমি ডিজি করেছি। অফিসের লোকজন সার্ভিস বুক লিখেছে, তার দায়ও শিক্ষা অফিসের।

এদিকে সার্ভিস বুক হারানো সংক্রান্ত এমন শিক্ষকের সংখ্যাও একেবারে কম নয়। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রায় ৩শ জন শিক্ষকের সার্ভিস বুক ছিলো না। অধিকাংশ শিক্ষকদের ফাাঁকিবাজি গায়েব করতেই নিখোঁজ হয়ে যায় এ সার্ভিস বুক! ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষকরাও ভোগান্তির শিকার হন এ দপ্তরে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ জনের নতুন সার্ভিস বুক খোলা হয়েছে, অন্যগুলোও প্রক্রিয়াধীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here