Tuesday, October 19, 2021
Homeআলোচিতশহীদ মিনার নেই চৌহালীর অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

শহীদ মিনার নেই চৌহালীর অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

মাজেদুল ইসলাম

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস সহ জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদদের প্রতি সম্মাননা জানাতে পারছে না।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলায় ৫টি কলেজ, ২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৭টি মাদ্রাসা, ১২৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা , ১৩০টি আনন্দ স্কুল ৩৬টি ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্কুল, ২০টি কেজি স্কুল ও কৃষক মাঠ স্কুল রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি নতুন প্রাইমারি স্কুল হচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ গুলোতে কোন শহীদ মিনার নেই।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চৌহালী ডিগ্রী কলেজ ও খামারগ্রাম ডিগ্রী কলেজ ছাড়া অন্যান্য যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে, সেগুলো রয়েছে অযত্ন ও অবহেলায়। এসব শহিদ মিনার নির্মানের পর সংস্কার করা হয়নি কখনই। জাতীয় দিবসগুলোতেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই বন্ধ থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারছে না।

খাষপুকুরিয়া বি.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্র আব্দুল জলিল জানায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রভাত ফেরি ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। কিন্তু শহীদ মিনার না থাকায় তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না। জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র রহিম জানায়, শহীদ মিনার না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা বাশ ও কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী ভাবে শহীদ মিনার তৈরি করে তাতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে থাকে।

চৌহালী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নজীর মিয়া জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের সম্মান জানানোর জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা প্রয়োজন। এতে করে সবাই শহীদদের প্রতি যেমন সম্মান জানাতে পারবে তেমনি শিক্ষার্থীরা এসব দিবস গুলোর তাৎপর্য বুঝতে পারবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেম ওবাইদ জানান, সরকারি উদ্যোগে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করা বিশেষ প্রয়োজন। বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও চৌহালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক সরকার বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করতে হবে এবং জাতীয় দিবসগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments