শুল্কফাকি দিয়ে আসছে ভারতীয় কাপড়, দেশীয় কাপড়ের চাহিদা কম

জসিম উদ্দিন,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ

চোরাই পথে আসা ভারতীয় শাড়ী কাপড়ে সয়লাব দক্ষিনাঞ্চলে বাজার গুলো। চাহিদা কমছে দেশিয় কাপড়ের। প্রশাসনের তৎপতায়ও থামছেনা চোরাকারবারীদের দৌরাত্ব। এরই মধ্যে চোরাই পথে আসা ভারতীয় শাড়ির একটি বিশাল চালান আটক করেছে কোস্টগার্ড। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাচারের সাথে জড়িত মাফিয়াদের চিহ্ণিত করতে না পারায় থামছে না অবৈধ ওই কর্মকান্ড।

প্রতি বছর ঈদ,বড়দিন আর নানা উৎসব আয়োজনে নতুন কাপড়ের চাহিদা বাড়ে বাজারের দোকান গুলোতে। আর এমন চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে বাংলাদেশের বাজারের প্রবেশ করে ভারত সহ বিভিন্ন দেশের কাপড়ের বড় বড় চালান। গেল ৫ আগষ্ট মোংলা বন্দরের হারবাড়িয়া এলাকা থেকে ২৬ কোটি টাকা মুল্যের ভারতীয় শাড়ীর চালান জব্দ করে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন। জব্দকৃত মালামাল মামলা দায়ের শেষে দেয়া হয় মোংলা থানায়। তবে পাচারের সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি কোস্টগার্ড। ভারতীয় শাড়ী জব্দের ঘটনায় কোস্টগার্ডের উপর ব্যবসায়ীরা খুশি। তবে বার বার শুধু মাত্র শাড়ী -কাপড় আটক হয় কিন্তু পাচারকারী থাকে ধরা ছোয়ার বাহিরে এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ও কম নয়।

মোংলা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী বাহাদুর বশ্রালয়ের মালিক মোঃ বাহাদুর জানান,নিয়মিত চোরাই পথে আসা কাপড়ের চালান জব্দ হচ্ছে কিন্তু কারা এর সাথে জড়িতদের চিহ্ণিত করা হচ্ছে না । তাই প্রায়সময় আহরহ ঘটছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে কাপড় আসার ঘটনা। এ কারনে যারা ভারতীয় শাড়ী কাপড় বিক্রি করছেন তারাই কেবল ব্যবসা করছেন। কারন শুল্ক ফাঁকি দেয়ার কারনে কম মুল্যে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি পিচ বিক্রি বেশি হচ্ছে। বিক্রি করতে না পারায় বাকীরা লোকসানে কবলে পড়ছেন। সেই সঙ্গে কমছে দেশীয় কাপড়ের চাহিদা। মোংলা নিউ মেইন রোড়ে ফেন্সী কথ ষ্টোরে থ্রি পিচ কিনতে আসা শর্মিলা কেয়া বলেন, ভারতীয় সকল কাপড়ের দামের ছেয়ে বাংলাদেশি কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় তারা ভারতীয় শাড়ী কিনতে বেশি আগ্রহী থাকেন।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমার্ন্ডার ক্যাপটেন এম শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, চোরাইপথে মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে। এ লক্ষে কাজ করছে কোস্টগার্ড।

তিনি দাবি করেন,আগের তুলনায় এখন অনেকটা কমে গেছে চোরাই পথে মালামাল আসার ঘটনা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আসা মালামাল জব্দ হলেও কেন ওই পাচারের সাথে জড়িতরা আটক হন না এমন প্রশ্নের জবাবে জোনাল কমার্ন্ডার জানান,তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারের সাথে জড়িতরা পালিয়ে যায় তাই তাদের আটক করা সম্ভব হয় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here