সাগরে মাছ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় উপকুল জুড়ে জেলে পরিবারে হাহাকার

জসিম উদ্দিন.বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি :

0
209

মাছের প্রজনন কালীন সময় এমন বিভেচনায় নিয়ে ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞায় উপকুল জুড়ে শুরু হয়েছে হাহা কার । বিপাকে পড়েছেন মৎস আহরণ ও বিপণন পেশায় নিয়োজিত বাগেরহাটের মোংলা.রামপাল.শরণখোলা ও মোড়লগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ। মৎস্য আহরনের ভরা মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা উপকুলের লাখো জেলে পরিবারে ঈদ আনন্দ বেদনায় পরিনত হতে চলেছে । মাছ ধরে জীবিকা চালানো লাখো পরিবারের সরকারের কাছে দাবী দ্রুত মাছ আহরণের নিষেধাজ্ঞ তুলে নেয়ার ।

বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর দরিদ্র শ্রেণির একটি বড় অংশ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এই মাছের উপর নির্ভর করেই চলে তাদের পরিবার পরিজনের যাবতীয় ব্যায়বার। আর তাদের মাছ ধরার প্রধান ক্ষেত্র বঙ্গোপসাগর। গেল ২০ মে থেকে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক অঞ্চলে সব ধরণের মৎস সম্পদ আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে পড়েছেন মৎস আহরণ ও বিপণন পেশায় নিয়োজিত মোংলার তৎসংলগ্ন উপকুলীয় অঞ্চলের সব মানুষ।
বাগেরহাট জেলা ট্রলার মালিক ও জেলে সমিতির সাধারন সম্পাদক মো: আক্কাস আলী জানান, মা ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুমে ২১দিন সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ মেনে নিয়েছি । ঝাটকা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য ৬ মাস ছোট ফাসের জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ মেনে নিয়েছি । এরপর আবার বর্তমানে মাছের ভরা মৌসুমে ৬৫ দিনের অবরোধ থাকলে, তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে যখন মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা,দেয়া হয়েছে তখন পার্শবর্তী দেশ ভারতের জেলেরা নির্বিঘেœ মাছ ধরে সাগরে। তাই ভারতের অংশে যখন নিষেধাজ্ঞা থাকে, একই সময় বাংলাদেশ অংশেও নিষেধাজ্ঞার দাবি তার।
শরনখোলা উপজেলার পেশাদার জেলে ইদ্রিস আলীর দাবি, বিভিন্নভাবে ধার-দেনা করে এবং চড়া সুদে লোন নিয়ে জেলেদের দাদন (অগ্রিম টাকা দেওয়া) দিয়েছে আড়তদার ও ট্রলার মালিকরা।কিন্তু মহাজনের টাকা নিয়ে তারা জাল.রশি আর প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নিয়েছেন। একই সাথে পরিবার পরিজন কে চাহিদা মতো সামর্থ্য অনুযায়ী সকল কেনা কাটা করে দিয়েছেন। কিন্তু সরকারী নিষেদাঙ্গায় এখন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। তাই ভরা মৌসুমে মাছ ধরতে না পারলে তাদের ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে যাবে।পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক দুরে থাক সেমাই-চিনি কিনতে পারবেন না তারা। অন্য দিকে অবরোধ চলাকালীন সময় সাধারণ জেলেরা বেকার হয়ে পড়ায়, উপার্জনের অন্য কোন পথ না পেয়ে জেলেরা বিভিন্ন ধরণের অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে পারে এমন আশংখ্যা রয়েছে অনেকের। একই সাথে মহাজনদের আড়ৎ গুলোতে এখন চলছে শুংসাং নিরবতা।
এ দিকে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমল কান্তি রায় বলেন, ১৯৮৩ সালের মেরিন ফিসারিজ অর্ডিন্যান্স সংশোধন করে একটি নতুন ধারা যুক্ত করে ২০১৫ সালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার । যেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশের সমুদ্রের অর্থনৈতিক অঞ্চলে সকল প্রকার মৎস সম্পদ আহরণ ২০ মে থেকে -২৩ জুলাই ৬৫ দিন নিষিদ্ধ থাকবে। মাছের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষে এ আইনটি করা হয়েছে। আর এখন সেটি বাস্তবায়ন চলছে। মৎস্য আহরনের নিষেদাঙ্গা কালীন সময় জেলেদের জন্য সরকারের কোন সহযোগীতা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতে জেলেদের সহযোগীতার জন্য নতুন কোন প্রকল্প নেয়া হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here