স্রোতের বিপরীতের ‘খান’

[ad_1]

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে যদি সদ্য ইন্টার পাস করা একটি ছেলে হুট করে পরিবারকে বলে বসে ‘আমি আর পড়াশোনা করব না’, সেটা যে কোনো বাবা-মাকে আহত করবে। আর যদি ছেলের বাবা তাহির খান নিজেই ডিরেক্টর থাকেন, তাহলে তো মিডিয়া লাইনে ইন্টার পাস ছেলেকে মানতেই পারবেন না। কিন্তু জেদী ছেলে মানুষ কী বলবে- সে সব না ভেবে ফিল্মেই যেতে চেয়েছেন, পড়াশোনা করলেও সেটা ফিল্মেই।

কলেজে থিয়েটার করতে গিয়ে বাদ, সিনেমার এক্সট্রা আর্টিস্ট মানে শুধু একসারি মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে এক লাইন গান গাওয়ার জন্য প্রতিদিন প্র‍্যাক্টিস করেও শেষ মুহূর্তে বাদ, পদে পদে ঝামেলা তাকে টলাতে পারেনি। শেষমেশ একটা অখ্যাত পরিচালকের ছবিতে একটি তরুণের ভূমিকায় অভিনয়, আর এই ছবিতে কাজ করে পরিচালক চাচার নজরে আসা।

‘কেয়ামত সি কেয়ামত তাক’ থেকে ‘দঙ্গল’ তার জয়রথ চলছেই। পথটা মসৃন ছিল না। ‘মন’, ‘দিল’, ‘মেলা’, ‘রাজা হিন্দুস্তানি’, ‘মঙ্গল পান্ডে’র মতো ছবি করেও তাকে যেতে হয়েছিল স্বেচ্ছা বিরতিতে।

‘রং দে বাসন্তি’, ‘গজনী’, ‘তারে জামিন পার’ দিয়ে যখন ফেরত আসলেন, তখন কেউ বুঝতে পারেননি নিজেকে নিয়ে সামনে কত্ত এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করবেন তিনি।

ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলের লুক নিয়ে ভারতের সর্বকালীন মাস্টারপিস ‘থ্রি ইডিয়টস’, পুলিশ হিসেবে ‘তালাশ’, চোর হিসেবে জমজ চরিত্রে ‘ধুম থ্রি’, অন্য গ্রহ থেকে আসা- হাজার পান খেয়ে মুখ লাল করে ‘পিকে’ লুক। আর সর্বশেষ মহাবীর হিসেবে ‘দঙ্গল’, যেখানে নিজেকে ভেঙেচুরে শরীরকে দেখিয়েছেন জীবনের দুটি পর্যায়।

সামনে আসছে ‘থাগস অফ হিন্দুস্তান’ (দিওয়ালি ২০১৮) আর ‘স্যালুট’ (২০১৯)। ৫০ থেকে শুরু করে ৩৫০ কোটি ক্লাব শুরুর ছবির মানুষটি ৪০০ কোটির ক্লাবেই যাবেন শিগগিরই।

‘আমি সালমান নই যে, শার্ট খুললেই দর্শক চলে আসবে, আমি শাহরুখ নই একটু হাত বাকিয়ে দাঁড়ালেই দর্শক পাগল হয়ে যাবে। আমার প্লাস পয়েন্ট, আমি জানি আমি আসলে কি জানি না, আমি শুধু অভিনয়টাই করতে চাই। অবশ্য চরিত্রের একদম ভেতরে যেয়ে। গল্প ভালো হলে তার জন্য যতটা লাগে করার চেষ্টা করি। অভিনেতার এমন কথা থেকে তার দৃঢ় মনোভাব বুঝা যায়।

অনেকে বলেন, তিনি হলিউডের হলে সব ছাপিয়ে যেতেন এতদিনে। কিন্তু তার ইচ্ছা ভারতেই। ‘সত্যমেভ জয়ত’ মতো টেলিভিশন অনুষ্ঠান করে ফেলেছেন হই চই। জিতেছেন অনেক পুরস্কার।

নায়ক অনেকেই হয়, অভিনেতা সবাই হয় না। শট শেষেও যিনি দুঃখের দৃশ্যে সেটে চোখের পানি ঝরান, তিনিই অভিনেতা। আমার এক চলচ্চিত্রপ্রেমী বন্ধুকে প্রায় বলতে শুনতাম, ‘বিনোদনের জন্য অনেকের ছবি দেখি, আর অভিনয় দেখতে নওয়াজুদ্দিন আর আমির খানকে দেখি’।

শারীরিক উচ্চতার জন্য বাবার শঙ্কা পেছনে ফেলে তিনি পারফেক্ট। মাত্র ৫ ফুট ৪ ইঞ্চির মানুষটি আমাদের প্রায়ই ভাবতে শেখান। শুভ জন্মদিন প্রিয় আমির খান। আপনার ৫৩তম জন্মদিনে রইল অনেক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা।

[ad_2]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here