ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার, মোয়াজ্জেমসহ ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
মাগুরা প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা জেলার দুটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১১ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বাতিল হয়েছে ৪ জনের মনোনয়নপত্র।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই তালিকা ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
মাগুরা-১ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত মনোয়ার হোসেন খান, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আব্দুল মতিন, গণ-অধিকার পরিষদের ডা. খলিলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাজিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের শম্পা বসু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী রেজাউল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. জাকির হোসেন মোল্লা এবং খেলাফত মজলিসের মো. ফয়জুল ইসলাম।
মাগুরা-২ আসনে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ
এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোস্তফা কামাল।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে মাগুরা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের ক্ষেত্রে। তিনি সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস ছিলেন।
জেলা রিটার্নিং অফিসার জানান, মোয়াজ্জেম হোসেনের জমা দেয়া সমর্থক ভোটারদের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। ১০ জন ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ৭ জনের স্বাক্ষরই ভুয়া এবং একজন মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া মাগুরা-২ আসনে হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় জাতীয় পার্টির মশিয়ার রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, মাগুরা-১ আসনে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় গণফোরামের মো. মিজানুর রহমান এবং ঋণ খেলাপের দায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়ার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও জেলা নির্বাচন অফিসার ফারাজী বেনজির আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে ব্রিফিং করা হয়। রিটার্নিং অফিসার জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
What's Your Reaction?

