স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক, পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা
ফেনী প্রতিনিধি
ফেনী সদর উপজেলায় স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী জহুরাকে মৌখিকভাবে তালাক দেন। জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের তোপের মুখে কাওসার এলাকা ছাড়েন। পরে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়িতে ফিরে স্থানীয়দের চাপে নিজের ভুল স্বীকার করেন। তিনি জানান, একজন মুফতির পরামর্শ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় সংসার করতে চান। বর্তমানে জহুরা তার শাশুড়ি ও তিন সন্তানসহ শ্বশুরের বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় জহুরার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা জহুরা ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, জহুরার সংসার পুনর্বাসন, পরিচালনা ও সন্তানদের ভরণপোষণে বিএনপি পাশে থাকবে। ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস ছাত্তার জানান, জহুরাকে আইনি ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হবে।
জহুরা বলেন, জীবনের প্রথম ভোট তিনি ধানের শীষ প্রতীকে দেন। এ কারণে তাকে মৌখিকভাবে তালাক দেয়া হয়। তিনি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সমাধানের মাধ্যমে স্বামীর সংসারেই থাকতে চান।
অন্যদিকে, কাওসারের মা শরীফা খাতুন বলেন, তার ছেলে অপরাধ করে থাকলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। স্ত্রী-সন্তানদের মর্যাদা না দিলে তাকে ঘরে জায়গা দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, কাওসার স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন সন্তান রয়েছে। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন বলে জানা গেছে।
What's Your Reaction?

