ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও মাদুরোকে তুলে নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

Jan 3, 2026 - 18:19
 0  7
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও মাদুরোকে তুলে নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে রশিয়া-ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

শনিবার ভোরে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে আক্রমণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযানের পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ‘আটক করে বিমানে করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালনা করা হয়েছে।

আক্রমণের পর এক্সে এক বিবৃতিতে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেন, ভেনেজুয়েলা এক ‘নতুন ভোর’ দেখেছে। স্বৈরশাসকের বিদায় হয়েছে। এখন সে তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হবে।

মাদুরো সরকার বলেছে, ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ও জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের চালানো সামরিক আগ্রাসনকে ভেনেজুয়েলা ‘প্রত্যাখ্যান’ করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সরকার।

যুক্তরাজ্য ‘কোনোভাবেই জড়িত ছিল না’: কেয়ার স্টারমার

মার্কিন অভিযানে যুক্তরাজ্য ‘কোনোভাবেই জড়িত ছিল না’ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। তিনি জানান, নিকোলাস মাদুরোকে ‘আটক’ করার বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলেননি।

‘না, আমি তা করিনি এবং এটি স্পষ্টতই একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং আমাদের সমস্ত তথ্য যাচাই করতে হবে’, যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের জন্য রেকর্ড করা মন্তব্যে স্টারমার বলেন।

‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ এবং নিন্দা’ জানিয়েছেন চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক।

সারা বিশ্বকে সতর্ক করা হচ্ছে: কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

কলম্বিয়া এই ঘটনার পর সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে লিখেছেন, সারা বিশ্বকে সতর্ক করা হচ্ছে, ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, শান্তি, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জীবন ও মানবিক মর্যাদার সুরক্ষা সব ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।

ভেনেজুয়েলায় হামলা যে অজুহাতে, তা গ্রহণযোগ্য নয়: রাশিয়া

রাশিয়া একে ‘সরাসরি সশস্ত্র আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আজ সকালে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সশস্ত্র আগ্রাসন চালিয়েছে। এটা উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়। শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলাকে ন্যায্যতা দিতে যে অজুহাত দেখানো হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। 

‘আমরা ভেনেজুয়েলার জনগণের সঙ্গে আমাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছি’, বলে বিবৃতিতে জানানো হয়

ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের মিত্র ইরান এবং কিউবা এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানান। তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলায় ‘অপরাধমূলক হামলা’ চালানোর অভিযোগ তুলে জরুরি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানান।

‘ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগো ভেনিজুয়েলার জনগণের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কমলা পারসাদ-বিসেসার।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলায় উত্তেজনা কমানো, সংযম এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।

এদিকে নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং দেশের নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো। তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ‘এই আক্রমণ সম্পর্কে বিশ্বের কথা বলা উচিত।’

মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলায় বড় আকারের হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে।’

শনিবার নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে এক বিবৃতিতে একথা জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মাদুরোকে কীভাবে ধরা হয়েছে বা তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরে একটি সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ আটক করে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সিবিএসকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স আটক করেছে। ডেল্টা ফোর্স হলো মার্কিন সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস দমন ইউনিট।

তবে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ধরার বিষয়টি ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় হামলা

আজ শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। সিএনএনের সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ বলেন, 'একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, আমার জানালার কাঁচ কাঁপছিল।'

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারাকাসে বিকট শব্দের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। শহরের দক্ষিণ অংশে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতে শহরের আলোঝলমলের মধ্যে আকাশে দুটি ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। অন্য একটি স্থানে আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট শব্দ শোনা যায়।

জরুরি অবস্থা জারি

সিবিএস নিউজ জানায়, কারাকাসে বিস্ফোরণ সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত রয়েছেন। ট্রাম্প নিজেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনাসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা হয়েছে। এর ফলে মাদুরো দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: মার্কো রুবিও

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, 'মাদুরোকে আটক করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।'

আজ শনিবার রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেন মার্কিন সিনেটর মাইক লি। তিনি বলেন, ‘মাদুরো মার্কিন হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।'

নিউইয়র্কে মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের খবর

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের সাউথ ডিস্ট্রিক্টে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি।

তিনি জানিয়েছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে ‌মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানি, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

‘তারা শিগগিরই আমেরিকার মাটিতে, আমেরিকান আদালতে, আমেরিকান ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন,’ বন্ডি বলেন। তবে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি নিয়ে কিছু বলেননি বন্ডি।

মাদুরোর অবস্থান অজানা, ‘জীবিত আছেন’ প্রমাণ চান ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট

ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস কোথায় আছেন তা দেশটির সরকারের জানা নেই। তারা উভয়েই ‘বেঁচে আছেন’, ভেনেজুয়েলার সরকার তার ‘তাৎক্ষণিক প্রমাণ’ চেয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসি জানায়, শনিবার ভোররাতে দেশটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার পর থেকে অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দেশটির সামরিক অবকাঠামো ও অন্যান্য লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে। হামলায় সামরিক অবকাঠামোগুলো কতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হয়নি।

ট্রাম্পের চক্ষুশূল কে এই নিকোলাস মাদুরো

বামপন্থী নেতা হুগো শ্যাভেজের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন নিকোলাস মাদুরো। একসময় তিনি বাস চালাতেন, ছিলেন শ্রমিক নেতা। শ্যাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হন। পরে ভেনেজুয়েলার বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনে ধীরে ধীরে প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠেন। একপর্যায়ে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেন আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের। বন্ধু হওয়ার পরিবর্তে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ে দেশ দুটি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চক্ষুশূল হয়ে উঠেন নিকোলাস মাদুরো।

শ্যাভেজ সরকারের আমলে মাদুরো প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। শ্যাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে তাকেই মনোনীত করা হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট মাদুরো নিজেকে ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক প্রকল্পের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচক এবং বারবার অভিযোগ করে আসছেন, ওয়াশিংটন তার সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অভ্যুত্থানচেষ্টা, অর্থনৈতিক নাশকতা ও নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো মাদুরোর বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী শাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

২০১৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- পরের বছর অর্থাৎ, ২০১৯ সালে ভেনেজুয়েলার আইন পরিষদ সংবিধান পরিবর্তন করে এবং মাদুরো জোর করে ক্ষমতা দখল করেন।

২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টির বেশি দেশ নিকোলাস মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মানতে নারাজ।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনেও ক্ষমতা ধরে রাখেন মাদুরো। নির্বাচনে বিরোধীরা দাবি করেছিল তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ বিপুল ভোটে জিতেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এই নির্বাচন মেনে নেয়নি। তারা গঞ্জালেজকেই ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু সেনাবাহিনী ও পুলিশ মাদুরোর হাতে থাকায় তিনি ক্ষমতা ছাড়েননি। ওদিকে গ্রেপ্তারের ভয়ে গঞ্জালেজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ- মাদুরো তার দেশের জেলখানা আর পাগলা গারদ খালি করে অপরাধীদের আমেরিকায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন। আরেকটা কারণ হলো মাদক। ট্রাম্প ফেন্টানিল ও কোকেনের প্রবেশ ঠেকাতে চান। তিনি ভেনেজুয়েলার দুটি অপরাধী দলকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণা করেছেন। তার দাবি, এর একটির নেতা খোদ মাদুরো। মাদুরো অবশ্য এসব অস্বীকার করে বলেন, ‘আমেরিকা মাদক যুদ্ধের বাহানায় আসলে আমাকে সরিয়ে ভেনেজুয়েলার তেলের খনি দখল করতে চায়।’

সূত্র: আল-জাজিরা এবং বিবিসি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow