বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে যা বললেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি’র সভাপতি

Dec 19, 2025 - 17:25
 0  9
বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে যা বললেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি’র সভাপতি
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মানুষকে সতর্ক করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। প্রতিবেশী দেশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘শত্রু দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে’। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। এসময় বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। এদিকে বাংলাদেশকে ঘিরে উত্তেজনার জেরে কলকাতা ও দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কলকাতা বিমানবন্দরে বিজেপি নেতা শমিক বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের শিক্ষা নেয়া উচিত। তার ভাষায়, ‘এনিমি অ্যাট দ্য ডোর স্টেপ (শত্রু দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে)। মৌলবাদের প্রভাব থেকে কানাডা, আমেরিকা কিংবা ইউরোপের কোনও দেশই মুক্ত নয়’। তিনি দাবি করেন, ভারতের সহযোগিতাতেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল এবং সে সময় নেতৃত্বে ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশে কী পরিস্থিতি চলছে, তা সেখানকার মানুষের জানা আছে।

শমিক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তি ভাঙা হচ্ছে, আর পশ্চিমবঙ্গের মালদায় তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্রনেতারা রবীন্দ্রনাথের ছবিতে আগুন দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি দখল করা হয়েছে এবং একের পর এক প্রাচীন হিন্দু মন্দির ভাঙা হচ্ছে। তার মতে, রাজ্যের বহু মানুষের এখন সচেতন হওয়া প্রয়োজন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বিপদ মোকাবিলা না করলে বর্তমান শাসক দল পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানিয়ে ছাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনার পর কলকাতা, দিল্লি, ত্রিপুরা ও আসামে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। কলকাতা ও দিল্লির দূতাবাসে স্থায়ীভাবে পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টাই ৪ থেকে ৬ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকেন। তবে শুক্রবার সকাল থেকে এসব দূতাবাসে অন্তত ১০০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কলকাতার বেকবাগান এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাস চত্বর শুক্রবার সকাল থেকে কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ব্যারিকেড দিয়ে দূতাবাস-সংলগ্ন সড়ক সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাস চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আধা-সামরিক বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। কলকাতা ও দিল্লি— উভয় স্থানেই স্ট্যান্ডবাই হিসেবে হালকা প্রতিরোধমূলক যান ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারতের ভূখণ্ডে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে ত্রিপুরা, কলকাতা, আগরতলা, বেঙ্গালুরু ও মহারাষ্ট্রের রাজ্য সরকারগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলো তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও বাংলাদেশ-সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার বর্মা বলেন, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক করা হয়েছে এবং কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে জন্য সব প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow