ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাচ্ছেন যে তিনজন
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন তিনজন ব্যক্তি জয়ী হয়েছেন, যারা শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে কারাগারে বছরের পর বছর ধরে করুণ দিন পার করেছেন। সেসময় প্রহসনের বিচারে তারা পেয়েছিলেন মৃত্যুদণ্ডের রায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন না হলে হয়তো এখনও তারা জেলে থাকতেন অথবা প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে পাওয়া মৃত্যুদণ্ডের কারণে ফাঁসিও হয়ে যেত।
২০২৪ সালে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই তিনজন খালাস পান। ছাত্র-জনতাও তাদের নিরাশ করেনি। নেতা কিংবা জনতার সেবক হিসেবে তাদের গ্রহণ করেছে এদেশের জনগণ। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। বলা যায়, গলায় ফাঁসির দড়ি থেকে ফিরে আসা এই তিন নেতাকে এদেশের জনগণ পড়িয়ে দিয়েছে নেতৃত্বের মুকুট।
২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একদিনের জন্যও জামিন মেলেনি তার। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই কেটেছে ১৮ বছর। আগস্টে পটপরিবর্তনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলা থেকে খালাস পান বাবর। গত বছর ১৬ জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি যখন খালাস পেয়ে মুক্ত আকাশে ফিরলেন, তখন এদেশের ছাত্র-জনতা তাকে আধিপত্যবাদবিরোধী প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল ভাইরাল ট্রেন্ড, যা এখনও দেখা যায়। কারাগার থেকে ফিরে নিজের নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনায় আবার কাজ শুরু করেন তিনি। নির্বাচনে অংশ নেন ধানের শীষ প্রতীকে নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি) আসনে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
বাবরের মতোই আরেক বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু। ২১ আগস্টের সেই গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকেও দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের কারাজীবনের ইতি ঘটিয়ে মুক্তি পান তিনি। এরপর তিনিও ফিরে যান জন্মস্থান টাঙ্গাইলে। স্থানীয় গোপালপুর-ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল-২) আসনে তার হাতে ধানের শীষ তুলে দেয়া হয়। নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন পিন্টু।
এছাড়া রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পরই গ্রেপ্তার হন আজহার। ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ এক যুগ ধরে কারাবন্দি ছিলেন তিনি। ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে পরিচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। গত বছর ২৮ মে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
What's Your Reaction?

