বসন্তের আগমনে পলাশের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি
শীতের জীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সহ কয়েকটি এলাকায় পলাশ ফুলের রঙিন পাপড়িতে নতুন সাজে সেজে ওঠে প্রকৃতি। ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই পলাশ ফুলের স্বর্গীয় সৌন্দর্য যেন জানান দেয়—‘বসন্ত বুঝি এলো রে’। ভালোবাসা দিবসকেও যেন রাঙিয়ে তোলে এ ফুল। তবে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা চোখধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত বসন্তের রূপকন্যা পলাশ ফুল এখন বিলুপ্তপ্রায়।
“ও পলাশ, ও শিমুল—কেন এ মন মোর রাঙালে, জানি না জানি না, আমার এ ঘুম কেন ভাঙালে”—ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর-এর এ গানটিই যেন বুঝিয়ে দেয়, এ ফুলগুলো কতটা হৃদয়ে দোলা দেয়। বসন্তের শুরুতেই প্রকৃতির ভালোবাসার বার্তা দিতে যেন হাসিতে ভরে ওঠে পলাশ। প্রকৃতির এই অপরূপ রঙের সাজ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। পাখির কলকাকলিতে বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্য আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ঋতুরাজের রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রকৃতিপ্রেমী, প্রেমিক-প্রেমিকা এবং সমগ্র প্রাণীকূল মেতে ওঠে মিলনের আনন্দে। পলাশের আগুনঝরা রং প্রেমিক-প্রেমিকাদের মনে গভীর দাগ কাটে।
গোপালগঞ্জে বছর দশেক আগেও জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে, মাঠে পলাশ গাছ দেখা গেলেও এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবনের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি পলাশ গাছ এখনো এলাকার সৌন্দর্য বাড়িয়ে চলেছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য ধরে রাখতে পলাশ গাছ না কাটার পাশাপাশি নতুন করে এ গাছ লাগানোর দাবি জানিয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
বৈশ্বিক দূষণ ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ফলে ধীরে ধীরে প্রতিটি ঋতুই হারাচ্ছে তার নিজস্ব বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য। প্রকৃতির স্বরূপ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন ব্যাপক বৃক্ষরোপণ।
What's Your Reaction?

