ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রকাশ্যেই চলছে ঘুষের লেনদেন। দলিল রেজিস্ট্রি, জমির নকল কাগজপত্র বা রেকর্ড রুম থেকে নথি সংগ্রহ কোনো কিছুতেই ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ভুয়া দলিল তৈরির সঙ্গেও জড়িত কর্মচারীরা। সম্প্রতি ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভিডিওতে দেখা যায়, ভুয়া সদন ব্যবহার করে রেকর্ড কিপার বা নকল নবীশের চাকরি পাওয়া মো. মাসুদ আলি মোল্লা প্রকাশ্যে ঘুষ নিচ্ছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হচ্ছে। আবার শরীয়তপুর জেলার একটি ভুয়া দলিলের নকল সরবরাহ করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
শরীয়তপুরের জাজিরার ভুক্তভোগী মো. রাজিব মিয়া জানান, ফরিদপুর জেলা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকেই বৃহত্তর ফরিদপুরের পাঁচ জেলার পুরনো দলিলসহ জমি রেজিস্ট্রি, মূল দলিল উত্তোলন ও সম্পত্তি হস্তান্তরের তথ্য সরবরাহ করা হয়। এ কারণে এই অফিসের ওপর নির্ভরশীল বহু মানুষ। আর সেই সুযোগেই অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযোগ উঠেছে, সন্ধ্যার পরেও ইউনিয়ন ভূমি অফিস খোলা রেখে অনিয়মের মাধ্যমে সেবা দেয়া হয়। ভিডিওতে টাকা দিতে দেখা যায়- ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. মান্নান মোল্লাকে। তিনি জানান, তিন দফা টাকা দেয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে গোপনে ভিডিও করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ভুয়া সদন দিয়ে চাকরি পাননি এবং প্রকাশ্যে টাকা নেয়ার বিষয়টিও সত্য নয়।
তবে ভাইরাল ভিডিও দেখে ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার মিনতি দাস অভিযুক্ত কর্মচারীকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার মোহা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুয়া সদনে চাকরি পাওয়া এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর সুলতান মাহমুদ হীরক বলেন, আমরা চাই জেলার নয়টি উপজেলা ও ৮১টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা পাক। এ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
What's Your Reaction?






