বাবা-ছেলের 'সম্মিলিত অলরাউন্ড' নৈপুণ্যে নোয়াখালীর দাপুটে জয়

Jan 11, 2026 - 16:25
 0  4
বাবা-ছেলের 'সম্মিলিত অলরাউন্ড' নৈপুণ্যে নোয়াখালীর দাপুটে জয়
ছবি : সংগৃহীত

টানা দ্বিতীয় জয় পেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। আগে ব্যাট করে দলটি সংগ্রহ করে সাত উইকেটে ১৮৪ রান। জবাবে ঢাকা ক্যাপিটালস থেমেছে রানে। ফলে ৪২ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে টুর্নামেন্টের প্রথম ছয় ম্যাচেই হারা নোয়াখালী। বৃথা গেল শামীম-সাইফউদ্দিনের ক্যামিও ইনিংস। নোয়াখালীর পক্ষে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন হাসান ইসাখিল ও বল হাতে জাদু দেখিয়েছেন মোহাম্মদ নবী।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে দেখা যায় ঢাকার দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রহমানউল্লাহ গুরবাজকে। কয়েকবার ঝুঁকিপূর্ণ শটের পর অবশেষে ১০ বলে ১১ রান করে ক্যাচ আউট হয়ে যান গুরবাজ। হাসানের বলে আউট হওয়ার আগে একটি ছক্কা হাঁকান তিনি।

মামুনও আউট হয়ে যান দ্রুতই। ৮ বলে ২ রান করে ক্যাচ আউট হন মামুন। একই ওভারে আউট হন সাইফ হাসান। ২ বল খেললেও কোনো রান করতে পারেননি তিনি। ছন্নছাড়া এক শটে ক্যাচ আউট হন তিনি। দুইটি উইকেটই নেন ইহসানউল্লাহ।

পরের ওভারেই আউট হয়ে যান নাসির হোসেন। চার বল খেললেও তিনি কোনো রানের দেখা পাননি। মেহেদী হাসান রানার বলে হাবিবুর রহমান সোহানের এক দুর্দান্ত ক্যাচে পয়েন্টে তালুবন্দি হন নাসির।

মাত্র ১৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। তবে শামীম হোসেন পাটোয়ারি নেমেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন। মোহাম্মদ মিঠুনের সাথে ৩৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন শামীম। তারপর সৌম্য সরকারের এক দারুণ বুদ্ধি খাটানো ক্যাচে আউট হন তিনি।

শামীম বিদায় নেন ১৬ বলে ২৯ রান করে। তার ব্যাট থেকে আসে চারটি চার ও একটি ছক্কা। মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হন তিনি। ওই ওভারেই রিভিউ নিয়ে শামীমকে এলবিডব্লিউ আউটের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন নবী।

তারপর মোহাম্মদ মিঠুন ও সাব্বির রহমান গড়েন ১৫ বলে ২২ রানের জুটি। ঢাকার অধিনায়ক মিঠুনকেও শিকার করেন নবী। নিজের বলেই ক্যাচ নেন এই আফগান ক্রিকেটার। ৩১ বলে ৩৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান মিঠুন। পাঁচটি চার আসে তার ব্যাট থেকে। রানার বলে সাব্বির আউট হন ১০ বলে ১৩ রান করে।

ইমাদ ওয়াসিমও ব্যর্থ হন। ৪ বলে ৩ রান করে তিনি আউট হন আবু জায়েদ রাহীর বলে। শেষ উইকেটে সাইফউদ্দিন একাই লড়াই করে। তবে তার ক্যামিও ইনিংস কেবল ঢাকার হারের ব্যবধান কমিয়েছে। ২০ বলে ৩৪ রান করেন সাইফউদ্দিন। ১৪৩ রানে অলআউট হয়েছে ঢাকা। ফলে ৪১ রানে ম্যাচ জিতেছে নোয়াখালী।

নবী চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন দুইটি উইকেট। এছাড়াও দুই উইকেট শিকার করেছেন রানা, হাসান মাহমুদ ও ইহসানউল্লাহ।

তার আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে নোয়াখালী। দুর্দান্ত সূচনা করেন হাসান ইসাখিল ও সৌম্য সরকার। পাওয়ারপ্লে-তে তারা তুলে ফেলেন ৬৪ রান। একেএকে শতরানে চলে যায় তাদের জুটি। ১০১ রানে নোয়াখালীর উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। সাব্বিরের তালুবন্দি হয়ে সৌম্য আউট হন। 

২৫ বলে ৪৮ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও একটি ছক্কা। স্ট্রাইকরেট ১৯২। তবে সৌম্যর পর দ্রুতই বিদায় নেন শাহাদাত হোসেন দিপু ও হাবিবুর রহমান সোহান। দিপু করেন ৬ বলে ৩ রান। সোহান করেন ৭ বলে ৪ রান। এই দুইজনকেই শিকার করেন তাইজুল ইসলাম।

১১৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে নোয়াখালী। তারপর দেখা যায় ৪১ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ নবী ও ১৯ বছর বয়সী ছেলে হাসান ইসাখিলের দুর্দান্ত জুটি। ৩০ বলে ৫৩ রান আসে বাবা ও ছেলের জুটিতে। সেখানে ইসাখিলের অবদান ছিল ১৭ বলে ৩৪ রান ও নবীর অবদান ছিল ১৩ বলে ১৭ রান।

১৭ রান করে নবী আউট হয়ে গেলে ভেঙে যায় এই জুটি। নবীকে শিকার করেন মামুন। পরের ওভারেই ইসাখিলকে থামান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সাইফের বলে মামুনের তালুবন্দি হন ইসাখিল। সেঞ্চুরি হাতছাড়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৬০ বলে ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ইসাখিলের ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও বিশাল পাঁচটি ছক্কা।

একই ওভারে হায়দার আলীকে গোল্ডেন ডাকের তিক্ত স্বাদও দেন সাইফউদ্দিন। নোয়াখালী মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ব্যাট হাতে বলার মতো কোনো অবদান রাখতে পারেনি। জাকের আলী অনিক করেন ৪ বলে ৮ রান। রান-আউট হন তিনি।

নির্ধারিত ২০ ওভারে নোয়াখালী সংগ্রহ করেছে ১৮৪ রান। উইকেট হারিয়েছে সাতটি। ঢাকার পক্ষে দুইটি করে উইকেট শিকার করেন সাইফউদ্দিন, তাইজুল ও মামুন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow