অযত্নে অবহেলায় জরাজীর্ণ ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারে স্মৃতিচিহ্ন

Feb 21, 2026 - 08:35
 0  2
অযত্নে অবহেলায় জরাজীর্ণ ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারে স্মৃতিচিহ্ন
ছবি : সংগৃহীত

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশে ফেব্রুয়ারি ও আগের দিন মানুষজন ভাষাশহীদের খোঁজখবর নিলেও ২২ তারিখ থেকেই তাঁর কথা মনে থাকে না। ৮০০ মিটার কাঁচা সড়ক পাড়ি দিয়ে শহীদ আবদুল জব্বারের ছেলের বাড়িতে যেতে হয়। এই গ্রামে তাঁর মা, স্ত্রী ও সন্তানের কবর পড়ে আছে অযত্নে। কেউ দেখিয়ে না দিলে চেনার উপায় নেই। তাঁর শেষ স্মৃতি রক্ষায় বাড়ির পাশে তৈরি শহীদ মিনারটি এখন জরাজীর্ণ। তাঁর স্মৃতি রক্ষায় স্থাপনাগুলো সংস্কার হবে বলে মনে হয় না। আক্ষেপ করে এমন কথা বলেছেন, ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের ভাতিজি রাশিদা বেগম।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের শিমুলকুচি এলাকায় ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের বাড়িতে গেলে এমন আক্ষেপ করেন রাশিদা বেগম। তিনি জানান, আবদুল জব্বারের ছেলে নুরুল ইসলাম বাদল মারা যাওয়ার পর এই গ্রামেই তাঁর দাফন হয়েছে। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন। এই গ্রামে ভাষাশহীদ জব্বারের নামে রয়েছে একটি শহীদ মিনার, একটি মসজিদ, পাঠাগার এবং আবদুল জব্বার স্মৃতি ফাউন্ডেশন। মসজিদটি উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে সংস্কার করা হলেও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে তাঁর নামে শহীদ মিনার। জব্বারের নামে করা বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক সংস্কার করে নতুন প্রজন্মর কাছে তাঁর জীবনী তুলে ধরার দাবি জানান তিনি।

জানা গেছে, ভাষাশহীদ আবদুল জব্বারের জন্মস্থান ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায়। ১৯৫০ সালের শেষ দিকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের শিমুলকুচি গ্রামে চলে আসেন। তখন আবদুল জব্বার আনসার বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে আবদুল জব্বার শহীদ হন। স্ত্রী আমেনা খাতুন ও ছেলে নুরুল ইসলাম বাদল বসবাস করতে থাকেন এই গ্রামে। ১৯৭৮ সালে মারা যান জব্বারের মা সাফাতুন্নেছা। পরে তাঁকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। ভাষাশহীদের স্মৃতি রক্ষায় ২০০০ সালের দিকে তাঁর ছোট ভাই আবদুল কাদিরের দেওয়া ২৫ শতাংশ জমিতে ‘ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার জামে মসজিদ ও পাঠাগার’ নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালে গড়ে তোলা হয় ‘ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার ফাউন্ডেশন’। যা ২০১০ সালে মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন পায়। বাড়ির পাশে ২০০৮ সালে জব্বারের স্ত্রী আমেনা খাতুন স্বামীর স্মৃতি রক্ষায় ব্যক্তিগত ৮ হাজার টাকা খরচ করে ছোট আকারে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেন। সেখানে ২১ ফেব্রুয়ারি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেন করতেন স্থানীয়রা। এই শহীদ মিনার সংস্কারের জন্য ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাদল জেলা পরিষদে আবেদন করেন। পরে ২০১০ সালে একটি শহীদ মিনার স্থাপন করে জেলা পরিষদ। কিন্তু সংস্কারের অভাবে এখন প্রায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে শহীদ মিনারটি। ২০১১ সালে মারা যান জব্বারের স্ত্রী আমেনা খাতুন। পরে তাঁকে জব্বার জামে মসজিদের পাশেই সমাহিত করা হয়। তাঁর ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মারা যান ২০২১ সালে। পরে তাঁকে সেই বাড়িতেই দাফন করা হয়। কবরটি বাঁশের বেড়া দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জব্বারের নাতনি আফরোজা আক্তার বলেন, ভাষাশহীদ জব্বারকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলেও তাঁর স্মৃতি রক্ষায় কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেই। আমাদের কেউ মূল্যায়নও করেন না। কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পাই না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলীনূর খান বলেন, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরে কিছু রাস্তা করে দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনারটি এমন এক জায়গায় নির্মিত যেখানে সংযোগ রাস্তা নেই। তাদের বলছি, মালিকরা যদি জমি দিতে আগ্রহী হয়, এ বছরের বরাদ্দে সড়কটি করে দেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow