ওসির অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকার লেনদেন, ব্যয় হয়েছে অনলাইন জুয়ায়

Feb 21, 2026 - 00:33
 0  3
ওসির অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকার লেনদেন, ব্যয় হয়েছে অনলাইন জুয়ায়
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে লাখ লাখ টাকার অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ‎২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তার বিকাশ ও নগদ হিসাব নম্বরে মোট ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন করা হয়েছে। কনস্টেবল ও আশপাশের মোবাইল দোকানসহ মোট সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে তার নম্বরে এসব টাকা পর্যায়ক্রমে পাঠানো হয়েছে।

‎শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামী তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি করেন।

‎ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে। ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন হওয়া এসব টাকার বেশির ভাগই আবার অনলাইন জুয়ায় ব্যয় হয়েছে। ওসির বিকাশ ও নগদ নম্বরে আসা এই অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, যা সাতটি বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে তার কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়।

‎তিনি আরও লিখেন, হাতে আসা তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি বিকাশ/নগদের দোকান থেকে (রহিমের দোকান) গত দুই মাসে ওসির মোবাইল নম্বরে এসেছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কনস্টেবল আমজাদের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। কনস্টেবল সাদ্দামের মোবাইল নম্বর থেকে এসেছে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা।

‎এছাড়াও, গত দুই মাসে নাসিম (বাড়িওয়ালা) এর নম্বর থেকে এসেছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা। মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে এসেছে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এর বাইরে খালেক নামের এক ব্যক্তি ওসির বিকাশ/নগদে পাঠিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা। লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি নম্বর থেকে ওসির ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে এসেছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা। আর মিজানুর নামের আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে এসেছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা। পাশাপাশি ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে।

‎তিনি আরও লিখেন, এ বিষয়ে জানতে ওসি ইমাউলকে কল করা হলে অনলাইন জুয়ার বিষয় কোনো ধারণা নেই ও তার মোবাইল হ্যাক করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

‎এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সব অস্বীকার করে ইমাউল হক বলেন, তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি এক মাস আগে হ্যাক হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও দাবি করেন। তবে জিডি নম্বর জানাতে পারেননি তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow