ময়মনসিংহ নগরীর আ.লীগ কার্যালয় ভাঙচুর
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ নগরীর শিববাড়িস্থ কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের তালাবন্ধ অফিস আবারও ভাঙচুর ও কার্যালয়ের সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কতিপয় নেতাকর্মীরা।
এ সময় তারা আওয়ামী লীগ অফিসের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়ে চলে যান।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস এই ভাঙচুরের নেতৃত্ব দেন।
বিগত ৫ আগস্টের পর এ নিয়ে তিনবার শীববাড়িস্থ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়টিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হলো।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নাজমুস সাকিব বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সোমবার সকাল ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করে সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
উল্লেখ, ৫ আগস্টের পর নগরীর শিববাড়িস্থ আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়টি ভঙ্গুর অবস্থায় তালাবন্ধ ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় কার্যালয়টি খোলার ব্যাপারে গুঞ্জণ উঠে এবং রাতের আধাঁরে কার্যালয়ের ভিতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আজাদ জাহান শামীমের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নগরীতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর সোমবার সকালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের নেতৃত্বে অফিস আবারও ভাংচুর করা হয়।
ভাংচুরের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ সংগঠন। তারা শহীদ সাগারসহ হাজার হাজার ছাত্র-জনতার হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার কার্যক্রম চলছে। এরই মাঝে এই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্প্রতি দলীয় কার্যালয় খোলে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। কিন্তু শহীদ সাগরের রক্তের ওপর দিয়ে কোনভাবেই নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে এই কার্যালয় ভেঙ্গে পাবলিক টয়লেট করা হবে।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এ ধরনের সক্রিয় কর্মকাণ্ডের কারণে দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করা হয় বলেও জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেতা।
What's Your Reaction?

