সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Feb 23, 2026 - 10:04
 0  5
সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিগত সময়ে ইস্যু করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পুনঃযাচাই, পুলিশে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগ, ওসি-এসপি পদায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা এবং পাসপোর্ট সেবায় নতুন সহায়ক ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। সেটি অবশ্যই পুনরুদ্ধার করতে হবে। পুলিশের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, তবে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি জানান, আগের সরকারের সময়ে যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা যাচাই করা হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় বা অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বৈধ লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে— ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র জমা হয়নি। এসব অস্ত্র এখন আইনগতভাবে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে মামলাও করা হবে।

পুলিশে নিয়োগ ও পদায়ন

পুলিশ বাহিনীতে জনবল ঘাটতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবিলম্বে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতীতে ঠিকানা জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি পদায়নের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি নিয়োগ লটারিতে হয় না। সার্ভিস রেকর্ড, দক্ষতা ও জেলার উপযোগিতা বিবেচনায় পদায়ন করতে হবে।

ই-পাসপোর্ট সেবায় নাগরিক ভোগান্তি কমাতে রেজিস্টার্ড সহায়ক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের আদলে নিবন্ধিত সহায়ক রাখা হতে পারে, যারা নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে এ ব্যবস্থা চালু করে সফল হলে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী মামলা পর্যালোচনা

৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু ক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সমাজের বিশিষ্টজন ও সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে পুলিশকে যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ মামলাবাজির শিকার হয়ে ভোগান্তিতে না পড়েন।

তিনি আরও বলেন, দেশে ‘মব কালচার’ বরদাস্ত করা হবে না। মহাসড়ক অবরোধ বা সহিংসতার মাধ্যমে দাবি আদায়ের দিন শেষ। বৈধ উপায়ে দাবি উপস্থাপন করতে হবে।

বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ছাড়া সমাজ টিকে থাকতে পারে না। তাই সংস্কারের মাধ্যমে বাহিনীর মনোবল বাড়াতে হবে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজনে নতুন কমিশন গঠন করা হতে পারে। এছাড়া ২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত ৬৩০ জন এসআইয়ের বিষয়ে আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তবে আইন ভঙ্গ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow