নারীর ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জায়মা রহমানের

Jan 18, 2026 - 15:54
 0  5
নারীর ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জায়মা রহমানের
ছবি : সংগৃহীত

নারীদের ভবিষ্যৎ গড়তে এবং জাতীয় অগ্রগতি দেখতে হলে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন  বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমান। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে 'জাতি গঠনে নারী নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক কর্মশালায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি আজ এখানে দাঁড়িয়েছি ভিন্ন এক অনুভূতি ও আবেগ নিয়ে। বাংলাদেশের এই পলিসি লেভেলটায় আমার প্রথম বক্তব্য এটা। আমি এমন কেউ নই যার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর আছে বা সব সমস্যার সমাধান জানা আছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি, নিজের ছোট্ট জায়গা থেকেও সমাজের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। আজ আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসাথে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে।

জায়মা রহমান বলেন, সমাজে নারীর ভূমিকা নিয়ে আমি প্রথম পরিবারের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছি। কোনো নীতি, আইন বা প্রতিষ্ঠানের সংস্পর্শে আসার অনেক আগেই আমাদের ঘর হয়ে ওঠে আমাদের প্রথম শিক্ষালয়। এসব জায়গায়ই আমাদের শেখায় কী করা সম্ভব, কী গ্রহণযোগ্য এবং আমাদের কাছে কী প্রত্যাশা করা হয়। এ সময় তিনি নারী শিক্ষা ও অগ্রযাত্রায় দাদা জিয়াউর রহমান, দাদি খালেদা জিয়া এবং নানির ভুমিকাও তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যের মাঝামাঝি জীবন তাকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কেবল নীতিমালা এবং সুযোগ-সুবিধাই সমতা তৈরি করে না। শিক্ষার প্রসার, আইন পাস, জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করার পরও যদি সামাজিক রীতি-নীতি, দৈনন্দিন প্রত্যাশা এবং মানসিকতা অসম থেকে যায়, তবে ক্ষমতায়ন সবসময়ই নড়বড়ে হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নারীরা এখনও প্রতিদিন গৃহস্থলি কাজে পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করেন। এই শ্রম আমাদের জিডিপি-র ১৯ শতাংশের সমান, কিন্তু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি মূলত অদৃশ্যই থেকে যায়। এটি একটি বিষয়কে খুব স্পষ্ট করে দেয়: লিঙ্গ সমতা কেবল নারীদের কোনো আলাদা সমস্যা নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা। মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও, বাংলাদেশে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৪০ শতাংশের নিচে, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৮০ শতাংশের বেশি। বিয়ে বা সন্তান জন্মের পর নারীদের বেতনভুক্ত কাজ থেকে সরে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে; তাদের দক্ষতা বা উচ্চাকাঙ্ক্ষার অভাবের জন্য নয়, বরং আমাদের ব্যবস্থা বা সিস্টেম ধরে নেয় যে তারাই এই ত্যাগ স্বীকার করবে।

পুরুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের বাবা, ভাই, ছেলে, স্বামী, সহকর্মী এবং বন্ধুরা—নারীর অধিকারের প্রতি আপনাদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের সাফল্য উদযাপনে আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সমতা কেবল কথার মাধ্যমে টিকে থাকতে পারে না। যদি ব্যবস্থা এবং প্রত্যাশাগুলো নারীদের ত্যাগের ওপরই নির্ভর করে চলে, তবে বৈষম্য থেকেই যাবে।

তিনি আরও বলেন, যখন নারীদের কোণঠাসা না করে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা কেবল তাদের নিজেদের জীবনই পরিবর্তন করে না, বরং তারা তাদের পরিবারের এবং জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দেয়। বাংলাদেশ যদি প্রকৃত অগ্রগতি চায়—কেবল প্রতীকি সাফল্যের গল্প নয়, বরং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন—তবে ক্ষমতায়ন কেবল শ্রেণীকক্ষ, অফিস বা নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি অবশ্যই আমাদের ঘর, আমাদের প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের মানসিকতায় পৌঁছাতে হবে। আর আমাদের ভবিষ্যৎ গড়তে এবং জাতীয় অগ্রগতি দেখতে হলে এটি আমাদের সবার সমন্বিতভাবে কাজ হতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow