ফরিদপুর-১ আসনে আ.লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত
ফরিদপুর প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সিদ্ধান্ত দেশের সংবিধান, আইন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন ওই প্রার্থী। একই সঙ্গে প্রার্থিতা স্থগিতের আদেশের কপি না দেওয়ায় আপিলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার কামারগ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আরিফুর রহমান দোলন। তিনি ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহাজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পাঁচ দিন আগে উচ্চ আদালতের আইনজীবী গোলাম আহমেদ বুলবুলের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় উল্লেখ করে জুনায়েদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেন। রিটকারী বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা এবং তার বাবা-মা জামায়াতে ইসলামীর রোকন বলে তিনি দাবি করেন।
আরিফুর রহমান দোলন বলেন, রিটে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একসময় তিনি কৃষক লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন, তবে বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের পদে নেই। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান আইনে কোথাও উল্লেখ নেই যে কোনো ব্যক্তি যদি পূর্বে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং সেই দল নিষিদ্ধ হয়, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তাছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীও নন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন। এরপর হঠাৎ করেই উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের মাধ্যমে তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়। এতে তার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমনকি যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা, সেই আদেশের কপি না পাওয়ায় আপিলের সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে—এমন ব্যক্তিরাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও শুধু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এতে স্বাধীনতাবিরোধীদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তিনি স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেবেন।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনও আদেশের কপি পাওয়া যায়নি। কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?

