ফেব্রুয়ারিতেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছাড়বেন ড. ইউনূস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর নতুন সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্য দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হওয়ায় দায়িত্ব শেষ হয় মুহাম্মদ ইউনূসের।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে দেবেন। যমুনা ছেড়ে তিনি তার গুলশানের বাসভবনে উঠবেন। তৎকালীন পরিস্থিতিতে গণভবন বসবাসের অনুপযোগী থাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে তার বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করে।
জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী ড. ইউনূসের আরও তিন মাস যমুনায় বসবাসের সুযোগ থাকলেও তিনি যমুনা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে এরই মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন, অধ্যাপক ইউনূস বর্তমানে যমুনাতেই অবস্থান করছেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, গুলশানের নিজ বাসভবনে সংস্কারকাজ চলায় তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ সাময়িকভাবে সেখানে আছেন। সংস্কার শেষ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি স্থায়ীভাবে নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর পরই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য প্রস্তুত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন তৈরির আগ পর্যন্ত যমুনাতেই থাকবেন তিনি।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা দু-চার দিনের মধ্যেই বাসাটি ছেড়ে দেবেন। এরপর সেটাকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বসবাসের উপযোগী করতে এক মাসের মতো সময় লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত যমুনাতেই তিনি থাকবেন। সেভাবেই গণপূর্ত বিভাগ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল। টানা ৫৫৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন শেরেবাংলা নগরের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন গণভবনে বসবাস করেছেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গণভবনে ব্যাপক লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়। সেটাকে জুলাই জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবনের জন্য জায়গা খোঁজা শুরু করে সরকার। এক পর্যায়ে গণভবনের পাশেই একটি জায়গা নির্ধারণ করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে সেটি নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকবেন।
What's Your Reaction?

