সখীপুরে জমি নিয়ে মামলা, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধাদের বিক্ষোভ

Jan 20, 2026 - 13:52
 0  3
সখীপুরে জমি নিয়ে মামলা, তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধাদের বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে দায়ের মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।  

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সখীপুর পৌরশহরের তালতলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে এই কর্মসূচি আয়োজন করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল। সমাবেশ শেষে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেন গুর্খা। বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম প্রমুখ।

জানা গেছে, সখীপুর মৌজার ১০৮ দাগের ১ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে সম্প্রতি টাঙ্গাইলের সখীপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন আবদুল আজিজ তালুকদার নামে এক ব্যক্তি। বাদী ওই ১ শতাংশ জমির ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করলে সিভিল কোর্ট কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। সিভিল কোর্ট কমিশনার আবদুল লতিফ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৭ জানুয়ারি সরেজমিন তদন্ত করতে সখীপুরে আসেন। কিন্তু তিনি বিবাদীপক্ষের কথাবার্তা না শুনে শুধু বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে গোপনে চলে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজুর ভাষ্য, বাদীপক্ষের দলিল মূলে প্রাপ্ত ১ শতাংশ জমিতে থাকা ভবনটি ভাড়ায় চলছে। বাদীর বড় ভাই এমপি (প্রয়াত সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহান) থাকাকালীন সময় থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের এই একতলা ভবনের দোকান ঘরটি দখলের চেষ্টা করছেন। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুরে এসে বাদীর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে চলে গেছেন, কেনো তদন্ত করেননি। ওই কর্মকর্তার বিচার ও শাস্তি চান তারা।

বাদী আবদুল আজিজ তালুকদার সমকালকে জানান, দলিল মূলে ওই জমির মালিক ছিলেন তার বাবা। উত্তরাধিকার সূত্রে ভবনের মালিক তারা। জমির মালিকানা আছে বলেই আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব হোসেন গুর্খা বলেন, শামসুল হক ও আলম মিয়ার কাছ থেকে জমি কিনে নিয়ে ভবন নির্মাণ করেছেন তারা। দোকান ঘরটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। বাদীপক্ষ একই দাগের ভিন্ন খতিয়ান থেকে জমি কিনে পাকা ভবন নির্মাণ করে তারাও দখলে রেখেছে। এই ভবনটি বাদীপক্ষ কৌশলে জবরদখলের পায়তারা করছে।

তবে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিভিল কোর্ট কমিশনার আবদুল লতিফ। সমকালকে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। শিগগিরই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

স্মারকলিপি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রশাসক ও ইউএনও আবদুল্লাহ আল রনী। তার ভাষ্য, খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধারা রাস্তায় থাকবেন– এটা হতে পারে না। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসককে জানানো হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow