সিরাজগঞ্জ শহর বিএনপির সেক্রেটারি মুন্সি জাহিদ আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

Jan 12, 2026 - 21:10
 0  62
সিরাজগঞ্জ শহর বিএনপির সেক্রেটারি মুন্সি জাহিদ আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ শহর বিএনপির সেক্রেটারি মুন্সি জাহিদ আলমের বিরুদ্ধে ওএমএস ডিলারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

৫ আগষ্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর জেলার বিভিন্ন স্থানে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি মিশনে নামেন সিরাজগঞ্জ পৌর শহর  বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্সি জাহিদ আলম।

জানা যায়, শহরের ১৫টি ওয়ার্ডের ওএমএস ডিলারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রতিটি ডিলারের কাছে থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন তিনি। জেলা যুবদল নেতা রবি, ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি স্বপন, ছাত্রদল নেতা রাজু’র মাধ্যমে চাঁদা উত্তোলন করেন মুন্সি জাহিদ আলম। এতে করে প্রতি মাসে তিনি সারে ৪ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করছেন।

চাঁদাবাজি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ১৫টি ওয়ার্ডের সভাপতির একটি অংশে মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাগ দিয়ে ম্যানেজ করছেন জাহিদ।

সম্প্রতি কয়েক মাস হলো এই টাকা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও পদধারী ২-৪ জন নেতা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। এতে করে ওয়ার্ডের বঞ্চিত অন্য সব নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে ঘটনাটি মিডিয়ার নজরে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, তার চাঁদাবাজি শুধু ওএমএস ডিলারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদে পদবী বিক্রি করেন জাহিদ আলম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার জানান, 'আওয়ামী লীগের আমলেও ওএমএসের ব্যবসা হয়েছে কিন্তু কখনো চাঁদা দিতে হয়নি। অথচ বিএনপি ক্ষমতা আসার আগেই চাঁদাতোলা শুরু করেছে। এই বিচার আল্লাহর কাছে দেওয়া ছাড়া উপায় নাই।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, 'চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে একাধিক ডিলার আমাদের অবগতি করেছে কিন্তু মুন্সি জাহিদ আলম বিএনপির উপর মহলের সাথে সখ্যতার কারনে আমরা কোন সমাধান করতে পারিনি। আমরাও চাই এই চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।'

চাঁদাবাজির বিষয়ে মুন্সি জাহিদ আলম বলেন, 'আমি কোন চাঁদাবাজি করিনি। কেউ যদি দলীয় পোগ্রামের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করে তাহলেতো সেটা চাঁদাবাজি নয়।'

উল্লেখ্য, গতবছর সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১৫ টি ওয়ার্ডে লটারির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে লটারি বন্ধের চেষ্টা করে। পরে জেলা প্রশাসক মুন্সি জাহিদ আলমকে হল রুম থেকে বের কবে দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow