বিএনপি ও যুবদল নেতার বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ

Jan 13, 2026 - 17:31
 0  4
বিএনপি ও যুবদল নেতার বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানার অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. আলমগীর খাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং অফিসার বরাবর তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি অভিযোগ দাখিল করেন। এতে অকথ্য ভাষায় মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁ ১১ জানুয়ারি সেখানকার শরীফপুর গ্রামে প্রয়াত খালেদা জিয়ার মিলাদ মাহফিলে তার নাম নিয়ে অসভ্য ও অকথ্য ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। ওই যুবদল নেতা বলেন, রুমিন ফারহানা ও মমতাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এছাড়া আরও অকথ্য ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। একই আয়োজনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান তার বক্তব্যে রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। ৪ জানুয়ারি আরেকটি আয়োজনে হাবিবুর রহমান বলেন, রুমিন ফারহানা টিস্যু পেপার হয়ে গেছে। টিস্যু পেপার কোনো কাজে লাগে না।

রুমিন ফারহানা অভিযোগে উল্লেখ করেন, এসব বক্তব্যের ফলে রুমিন ফারহানার সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এসব মন্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের শামিল এবং এর কারণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযোগগুলের সঙ্গে রুমিন ফারহানা ফেসবুকের লিংকও সংযুক্ত করে দিয়েছেন। এসব লিঙ্কে দু'জনের ভিডিও বক্তব্য পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি যে বক্তব্য রেখেছি তা সত্য এবং সঠিক। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এখন অভিনয় করছেন। রুমিন ফারহানা বিএনপি করতেন বলেই তাকে সকলে চেনে। বেগম খালেদা জিয়া যদি রুমিন ফারহানাকে সংসদে না নিতো তিনি এমপিও হতে পারতেন না, সেলিব্রিটিও হতে পারতেন না। অথচ তিনি বিএনপিকে নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেন। এই পর্যায়ে আমরা বলতেই পারি তিনি বিএনপির সঙ্গে বেঈমানি করেছেন।’

এদিকে আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁ বলেন, ‘আমি যে বক্তব্য দিয়েছিলাম তার দৈর্ঘ্য ছিল চার মিনিট। সেখানে আমি বলেছিলাম ফ্যাসিবাদের সময় সংসদে মমতাজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অসম্মান করে কথা বলতে গিয়ে যে পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তার পুনরাবৃত্তি হয়ে যেন সংসদে আর একজন মমতাজের আবির্ভাব না হয়। সে কথা বলতে গিয়ে মুখ ফসকে উনার কথা চলে আসে।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তা একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে। এরপর তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow