রাজধানীবাসী যানজট নিরসন পেতে পারে যেভাবে, যা করণীয়
আমিনুল আমিন
আপনি কি ভাবতে পারেন! ২০৫০ সালে রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাট যানজট কি হারে বৃদ্বিপাবে? যে হারে দিনে দিনে ব্যক্তিগত পরিবহন, গনপরিবহন সংখ্যা বাড়ছে সে অনুপাতে কি রাস্তাঘাট বাড়ছে? বিগত সরকার বিভিন্ন নতুন নতুন পথ বানিয়েছেন এবং খুজছেন কিভাবে এর থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়।
বিগত সরকার এলিভেটেড এক্সেপ্রেস, মেট্রোরেল, তিনশত ফিট, একশত ফিট সহ নতুন নতুন প্রজেক্ট চালু করেছেন এরকম আরো একটি সম্ভাবনাময়ী প্রজেক্ট রয়েছে যা বিগত সরকার গুরুত্বের সাথে দেখেনি। রাজধানীর যানজট নিরসনে বিশাল ভূমিকা সহ দৃষ্টিনন্দন হবে এবং এটি একটি পর্যটন নগরী হিসেবে অগ্রণীভূমিকা পালন করবে আশা রাখা যায়।
২০০৮ সালে আজ থেকে ১৮ বছর আগে আমার এক ভাগিনা ইসমাইল হোসেন আর আমার চিন্তা থেকে আসা এই পরিকল্পনা। তখন দুজনে মিলে শুরু করি গবেষণা কি করে রাজধানীর যানজট নিরসণ করা যায়। তখনকার সময়ে যানজট নিরসণের বিষয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলোচনা হত কিভাবে এই যানজট নিরসন ঘটানো যায়।
সেক্ষেত্রে যদি একটু ব্যাংককের দিকে তাকাই বা দেখি তাহলে কিছুটা বুঝতে পারা যাবে। ব্যাংকক সিটি খুব সুন্দর সাজানো এবং পরিকল্পিত সেখানে লক্ষ করলে দেখা যায় রাজধানীর ভেতরে প্রচুর পরিমানে খাল বিল আছে সে খাল বিলকে সোন্দর্য্যবর্ধন করে পর্যটন নগরী সহ সরকারের বিশাল এক রাজস্ব আদায়ের পথ তৈরী করেছেন।
সে দেশের রাজধানীতে প্রতিটি খাল কে পরিস্কার করে খালের দুপাশে বাধাই করে দৃষ্টিনন্দন ছোট ছোট মেশিন চালিত নৌকা বোডের মাধ্যেমে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করেন। এবং প্রতিটি স্টপেজের জন্য টার্মিনাল (পন্টুন) নির্ধারণ করা সহ খালের পারে বিভিন্ন খাবার দোকান সহ দিনে রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের সমাগম সব সময় । সে রকম পরিবেশ সৃষ্টিকরার অবস্থাও কিন্তু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় রয়েছে।
রাজধানীর চারপাশে নদী এবং খাল রয়েছে শুধু চারপাশেই নয় রাজধানীর ভিতরেও কিছু নদী এবং খাল রয়েছে সেগুলো এখন দখল করে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।
সৈন্দর্য্য বর্ধন সহ পরিকল্পিত ঝিল এবং খালের একটি নমুনা উল্যেখ করা যেতে পারে যেমন ”হাতিরঝিল” রাজধানীর প্রতিটি এলাকাতেই হাতিরঝিলের মত পরিবেশ রয়েছে তা সরকারের সুদৃষ্টিতে উদ্ধার হওয়া সম্ভব। রাজধানীকে আধুনিকায়ন করা এবং যানজটের ছোবল থেকে রক্ষা পেতে এর বিকল্প নেই ।
রাজধানী ঢাকায় শুধু মাসে বহুগুন অর্থ নষ্ট হয় শুধু মাত্র যানজটের কারনে, শুধু অর্থই নয় সেই সাথে মূল্যবান সময় টুকু বি ফলে যায়। এর থেকে পরিত্রান পেতে হলে অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করছে শহর পরিকল্পনাবীদরা। কিছুতেই কোন কাজ হচ্ছেনা এর কারণ কি ? আসুন জেনে নেই কি কারণে যানজট।
অবৈধ পার্কিং, অটো রিকশা ও অধিক পরিমানের ব্যক্তিগত পরিবহন এবং ফিটনেস ও কাগজপত্র বিহীন গণপরিবহন, ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার অনউন্নত, ফুটপাত দখল, এবং বাসের স্টপেজ ছাড়া যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা সহ দুরপাল্লার পরিবহন রাজধানীর ভিতর অনিয়ম তান্ত্রিক চলাফেরা।
এর থেকে মুক্তি পেতে হলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকা শহরকে দ্রুত যানজটমুক্ত করতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা (যেমন মেট্রো) সচল রাখা অপরিহার্য। পাশাপাশি, ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, এবং বাসের স্টপেজ নির্দিষ্ট করে ২ মিনিটের বেশি না থামার নিয়ম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রয়োজনে প্রতিটি বাস স্টপেজ সিসি ক্যামেরার অওতায় নিয়ে আশা এতেকরে জনবল কম হলেও রাস্তা নিয়ন্ত্রনে থাকবে। এবং ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে বসেই অনিয়ম কৃত পরিবহনকে মামলা করে দেয়া সহজ হবে বলে মনে করেন।
সেই সাথে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:-
ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ: ট্রাফিক পুলিশকে আরো সক্রিয় হতে হবে এবং নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
অবৈধ পার্কিং ও দখল উচ্ছেদ: প্রধান সড়কগুলোতে পার্কিং বন্ধ করতে হবে এবং ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে হবে।
গণপরিবহনে গুরুত্ব: ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে মেট্রো রেল ও বাসের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।
রিকশা নিয়ন্ত্রণ: মূল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দিতে হবে।
বাস স্টপেজ নির্দিষ্টকরণ: বাসের স্টপেজ ও সময় নির্দিষ্ট করে দিতে হবে এবং স্টপেজে ২ মিনিটের বেশি গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না ।
সিগন্যাল সংস্কার: স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা সচল ও কার্যকর করতে হবে।
স্কুল ও অফিস সময়ের বিকেন্দ্রীকরণ: স্কুল, কলেজ ও অফিস সময় ভিন্ন ভিন্ন করে সকালের তীব্র যানজট কমানো যেতে পারে।
এছাড়াও, ঢাকার ট্রাফিক সমস্যা সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি এই দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ: রাজধানীর চতুর পার্শে যে নদী এবং খাল রয়েছে তার প্রধান লোকেশন দক্ষিনে সদরঘাট উত্তরে টঙ্গি পূর্বে যাত্রাবাড়ী পশ্চিমে গাবতলী।
সেই নদীর পাশ দিয়ে হাইওয়ে রোড করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া যেতে পারে। এটি দুর পাল্লার গাড়িগুলোকে শহরের ভিতরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবে, যার ফলে যানজট কমবে এবং শহরের ভিতরের রাস্তাগুলোতে চাপ কমে আসবে। এই ধরনের হাইওয়ে বাইপাস রোডকে কাজে লাগালে তাতে করে শহরের অনেক যানজট কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজধানীর চতুর পার্শে যে খাল গুলোকে সংরক্ষন করে তার প্রধান লোকেশন অনুযায়ী দক্ষিনে সদরঘাট, উত্তরে টঙ্গি, পূর্বে যাত্রাবাড়ী, পশ্চিমে গাবতলী, টার্মিনাল স্টপেজ করে এবং প্রতিটি স্টপেজের জন্য টার্মিনাল (পন্টুন) নির্ধারণ করা সহ খালের পার গুলোকে বাধাই করে প্রতিটি এলাকা, ওর্য়াড, বা আসনের কর্তৃপক্ষকে লিজ দেয়া যেতে পারে যেন তারা তাদের এলাকাকে দৃষ্টিনন্দন করাসহ বানিজ্যিক স্থাপনা তৈরী করতে পারে।
বাইপাস রোডের পাশাপাশি নৌ-সেক্টর এলাকা অনুযায়ী স্টপেজ তৈরী করা: যেমন নদী এবং বাইপাস রোড কেরানীগঞ্জ থেকে গাবতলী, গাবতলী থেকে অশুলিয়া, আশুলিয়া থেকে টংঙ্গি, টংঙ্গি থেকে তুরাগ তলনা, তুরাগ তলনা থেকে তিনশত ফিট নীলা মার্কেট, তিনশত ফিট নীলা মার্কেট থেকে জলসিড়ি, জলসিড়ি থেকে কপোতাক্ষ গ্রীন সিটি, কপোতাক্ষ গ্রীন সিটি থেকে পূবাচল, পূবাচল থেকে চনপারা ডেমরা ঘাট, ডেমরা ঘাট থেকে সারুলিয়া ঘাট, সারুলিয়া ঘাট থেকে সন্দীরা বালুর ঘাট, সন্দীরা বালুর ঘাট থেকে কাচঁপুর, কাচঁপুর থেকে হিরাঝিল ইত্যাদি।
এতে করে দুরপাল্লার পরিবহন গুলো গাবতলী হয়ে রাজধানীতে প্রবেশ না করে হাইওয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করলে রাজধানীতে যেমন চাপ কমে আসবে তেমনি খরচের বেলায় সাশ্রই হবে। তাতে দিনে রাতে সব সময় দুরপাল্লার পরিবহন গুলো অবাদে চলাচল করতে পারবে।
What's Your Reaction?

