মোসাব্বির হত্যা: ৩ আসামি ৭ দিনের রিমান্ডে, একজনের দোষ স্বীকার

Jan 12, 2026 - 15:33
 0  2
মোসাব্বির হত্যা: ৩ আসামি ৭ দিনের রিমান্ডে, একজনের দোষ স্বীকার
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার মামলায় গ্রেফতার তিন আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এছাড়া মামলার অন্যতম আসামি শুটার জিন্নাত আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তিন আসামির রিমান্ডের আদেশ দেন। একই দিনে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আসামি জিন্নাতের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চার আসামিকে আদালতে হাজির করেন। জিন্নাত (২৪) স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য মামলার অন্য তিন আসামি— বিল্লাল, রিয়াজ (৩২) ও আব্দুল কাদিরকে (২৮) সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে ডিবি। আদালত শুনানি শেষে তাদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, “ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকি যারা আছে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মোসাব্বির বিগত সরকারের সময় ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। জেল থেকে বের হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় তাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হামলায় সুফিয়ান মাসুদ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পিপি আরও জানান, ঘটনার মূল শুটার রহিম এখনো পলাতক। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অস্ত্র উদ্ধারসহ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা আছে, তা জানতে রিমান্ডের প্রয়োজন।

শুনানি চলাকালে আসামি রিয়াজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে বলেন, “আমি ওইদিন কাজে ছিলাম, ঘটনার কিছুই জানি না। আমাকে শুধু শুধু গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে তেজতুরী বাজারে হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা মোসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে মোসাব্বির ও সুফিয়ান বেপারী মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মোসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ডিবি পুলিশ ঢাকা, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow