মন্ত্রিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনী আসন ছেড়ে দিতে বলে : রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
দল থেকে তাকে বার বার ফোন করে মন্ত্রিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনী আসন ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৭ বছর আমি কী করেছি, কার পক্ষে ছিলাম, কাদের জন্য কাজ করেছি তা সবাই জানে। মিডিয়ার যুগে সবকিছুই সবার চোখের সামনে। কে রাস্তায় লড়াই করেছে, কে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনে নেমেছে, আবার কে সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদকে অবৈধ বলেছে-সবাই জানে।
তিনি বলেন, একটি কষ্টের কথা বলি-যে দলের হাত ধরে আমি রাজনীতিতে এসেছি, সেই প্রাণের দলই আজ আমাকে বহিষ্কার করেছে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন। তার ভালোবাসা, আশ্রয় ও সহযোগিতায় আমি এতদূর এসেছি। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার আগে ২৩ নভেম্বর জানতে চেয়েছিলেন-আমার মনোনয়ন কেন দেয়া হয়নি। আর আমার মা খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার পর আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো।
দলের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এখন দল থেকে সকাল-বিকেল ফোন আসে। বলে, আসুন-মন্ত্রিত্ব দেব, আসনটি ছেড়ে দিন। আমার জান থাকতে, শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে আমি মন্ত্রিত্ব কিংবা অন্য কিছুর বিনিময়ে আমার এলাকার মানুষকে ছেড়ে যাবো না।
তিনি বলেন, আজ আমার এলাকার মানুষ যেভাবে ফুলের মালা দিয়ে ভালোবাসা দিচ্ছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মহান সৃষ্টিকর্তা যেন আমার ভাগ্যে বিজয়ের মালা দেন।
মতবিনিময়কালে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রুমিন ফারহানাকে একটি হাঁস উপহার দেয়া হয়। এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে হাঁস প্রতীক চাইবেন বলে ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোটপ্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিএনপি রুমিন ফারহানাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
প্রসঙ্গত, সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা এবং বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দিয়েছে। এ আসনে বিএনপির সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।
What's Your Reaction?

