তামিমকে নিয়ে বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে ক্রিকেটারদের ক্ষোভ
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলার প্রতিবাদে একাট্টা হয়েছেন ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার তামিম ইকবাল এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বলেন, দেশের ক্রিকেটের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে বিশ্বকাপ খেলার ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, দেশের ক্রিকেটের ৯০ শতাংশ রাজস্ব আসে আইসিসি থেকে। তামিমের এ মন্তব্যকে ভালোভাবে নেননি বিসিবির পরিচালক ও ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম। তিনি ফেসবুকে তামিমের ছবিসহ পোস্ট করেন এবং ক্যাপশনে লেখেন, ‘এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালাল -এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল।’
নাজমুলের ফেসবুক পোস্টে মুহূর্তে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ক্রিকেটার, বিসিবি কর্মকর্তা, ক্রিকেট সংগঠকরা ভালোভাবে নেননি এ পোস্টকে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল একটি টিভি চ্যানেলকে গতকাল বলেন, ‘কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত না।’
নাজমুলের বিতর্কিত পোস্টের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। সংগঠনটি বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, ‘সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালকের একটি মন্তব্য কোয়াবের নজরে এসেছে। আমরা এতে স্তব্ধ, বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনার, দেশের হয়ে ১৬ বছর খেলা ক্রিকেটারকে নিয়ে একজন বোর্ড কর্মকর্তার এমন মন্তব্য চরম নিন্দনীয়।’
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘শুধু তামিমের মতো একজন বলেই নয়, দেশের যে কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক। আমরা এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
বিসিবি কর্মকর্তাদেরও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্নে তুলেছে কোয়াব, ‘একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক যখন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এমন মন্তব্য করেন, তখন বোর্ড কর্মকর্তাদের আচরণবিধি নিয়েও আমাদের প্রশ্ন জাগে।’
সংগঠনটি একটি প্রতিবাদলিপি বিসিবি সভাপতিকে দিয়েছে। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সিলেটে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিসিবি সভাপতির কাছে এর মধ্যেই আমরা প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ড পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াসহ তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি। আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন বিসিবি সভাপতি।’
তামিম ইকবালকে কেন ভারতের পরীক্ষিত এজেন্ট বলে পোস্ট করেছেন– জানতে চাওয়া হলে নাজমুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘ভারতীয় মিডিয়া একটা ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশ আইসিসি রেভিনিউ থেকে বঞ্চিত হবে। ৯০ শতাংশ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তামিম ইকবাল ভারতীয় ন্যারেটিভকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেন এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এ কারণে আমার পোস্ট দেওয়া। আর আমি যেটা বলেছি, সেই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না। সবার আগে দেশ এবং দেশের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।’
কোয়াবের বিবৃতির পর গতকাল দুপুর থেকে ক্রিকেটাররা প্রতিবাদী পোস্ট দিতে থাকেন সামাজিক মাধ্যমে।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ ইসলামরা প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। নাজমুল হোসেন শান্ত সংবাদ সম্মেলনে জোরালো বক্তব্য দেন, ‘খুবই দুঃখজনক, আমরা এমন একটা মন্তব্য করে ফেললাম– এমন একজন ক্রিকেটার সম্পর্কে? সাবেক অধিনায়ক হোক বা একজন সাধারণ ক্রিকেটার হোক– সবাই সম্মান আশা করে। আমার মনে হয়, সবাই আমরা এই জিনিসটাই আশা করি। একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটারকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা খুবই দুঃখজনক।’
বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ আইনি নোটিশ দিতে পারেন তামিম।
What's Your Reaction?

