বাউফলে নার্সদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

Jan 6, 2026 - 17:29
 0  4
বাউফলে নার্সদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত নার্সদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোররাতের দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে নবজাতকের মৃতুর ঘটনা ঘটে।

নবজাতকের বাবা সাব্বির সিকদার ও মা ইতি বেগম বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

নবজাতকের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে প্রসব বেদনা অনুভব করলে ইতি বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক বা মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ছিলেন না। পরে রোগীকে তার স্বজনরা ওয়ার্ডে নিয়ে যান। 

সেখানে নিয়ে দায়িত্বরত নার্সদের বিষয়টি জানালে তাকে নবজাতক ডেলিভারি কক্ষে ভর্তি করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সারারাত ইতি বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও নার্সরা দায়িত্বরত চিকিৎসককে বিষয়টি জানাননি। ফলে সকালে ডেলিভারি করানোর পর নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নবজাতকের বাবা সাব্বির সিকদার বলেন, রাতে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে আমাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। নার্সদের বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা রাতে ডাক্তারকে ফোন করে ডাকেননি। হাসপাতালে আমাদের কোনো ধরনের  সহযোগিতা করেননি দায়িত্বরত নার্সরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাতে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক ফাতেমা বেগম যুথী। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজ কোয়ার্টারে অবস্থান করছিলেন। ওই সময়ে নার্সরা চিকিৎসককে বিষয়টি অবগত করেননি। 

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স শিরিন বেগম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রোগী এলে আগে জরুরি বিভাগে ভর্তি করতে হয়। এরপর চিকিৎসককে জানালে তিনি এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কোনো চিকিৎসা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভবও নয়। রোগীর প্রসব বেদনা বেশি ছিল, সেটা দেখেছি। তবে চিকিৎসককে জানানোর বিষয়টি জরুরি বিভাগের দায়িত্ব বলে জানান তিনি।

চিকিৎসক ফাতেমা বেগম যুথী বলেন, রাতে কোনো রোগী আসার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। সকালে আমি রোগীর বিষয় জানতে পেরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। তবে সকালেও রোগীর ভর্তির কোনো তথ্য রেজিস্টার খাতায় ছিল না। পরে আমি রোগীকে ভর্তি করে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার উদ্যোগ নেই। রিপোর্টে দেখা যায়, নবজাতক আর জীবিত নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। রোগীর পরিবার আমাকে অভিযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রাতে চিকিৎসকরা কল অন ডিউটিতে থাকেন। জরুরি বিভাগে রোগী এলে মুঠোফোনে চিকিৎসককে জানানো হয়। তখন তিনি এসে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow