ইউক্রেনে আবারও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া
আটলান্টিক মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি রুশ পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার জব্দকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতেই ইউক্রেনে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে মস্কো। শুক্রবারের এই হামলায় আবারও হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে মস্কো। এই হামলাকে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ– ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং রুশ-সংশ্লিষ্ট তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করার ‘জবাব’ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
শুক্রবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্য করে রাতভর হামলা চালায়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, গত মাসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার চেষ্টার প্রতিক্রিয়াতেই এই আঘাত। তবে কিয়েভ সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর বরাতে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রথমবার ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছিল মস্কো। পুতিনের ভাষায়, শব্দের গতির ১০ গুণের বেশি গতিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কার্যত অসম্ভব। যদিও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে এটি এখনও ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে ওঠেনি।
রাশিয়ার হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনও রুশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এর জেরে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলগোরোদ অঞ্চলে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেনের হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। এই উত্তেজনার পেছনে আছে গভীর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা। পুতিনের ঘনিষ্ঠ নেতা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে তীব্র কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি মস্কো। আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কার জব্দের সময় রুশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন কাছাকাছি থাকলেও প্রতিরোধের কোনো চেষ্টা করেনি। এ ঘটনায়ও নীরবতা বজায় রেখেছে ক্রেমলিন। যদিও রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে, তবে সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে কোনো তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ নেননি ভ্লাদিমির পুতিন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতা কাকতালীয় নয়। বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন শক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে, সেখানে নিজেকে সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়েই কৌশলগত লাভ নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন পুতিন। খবর রয়টার্সের।
What's Your Reaction?

