যশোরে বিএনপি নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা

Jan 3, 2026 - 19:05
 0  8
যশোরে বিএনপি নেতাকে মাথায় গুলি করে হত্যা
ছবি : সংগৃহীত

যশোর প্রতিনিধি

যশোরে আলমগীর হোসেন (৫৫) নামে বিএনপির এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আলমগীর যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ মহল্লার মৃত ইন্তাজ আলীর ছেলে। পেশায় গ্রিন ল্যান্ড রিয়েল এস্টেট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আলমগীর।

জানা গেছে, রাতে যশোর মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে শংকরপুর এলাকার দিকে আসছিলেন আলমগীর হোসেন। পথে শংকরপুর বটতলা এলাকার কাছে পৌঁছালে পেছন থেকে আরও দু’টি মোটরসাইকেলে অজ্ঞাত চারজন তার মোটরসাইকেলের কাছে আসে। ওই সময় চলন্ত অবস্থায় আলমগীরের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমগীর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও হত্যাকারীদের এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন দুলু জানান, শংকরপুর বটতলা এলাকায় সাবেক কাউন্সিলর শাহেদ হোসেন নয়নের অফিসের সামনে পৌঁছালে দু’টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা আলমগীরকে পেছন থেকে ডাক দেয়। ওই সময় আলমগীর মোটরসাইকেলের গতি কমাতেই তার মাথায় গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে মুখ বাঁধা থাকায় তাদের কাউকে চেনা যায়নি।

অন্যদিকে নিহতের ছোট ভাই আবু মুসা জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের সঙ্গে কারও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ছিল না। ফলে কারা এবং কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে তার ভাইয়ের কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল কিনা, সে বিষয়েও কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

ঘটনার পর হাসপাতালে নেয়ার আগেই বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনের মৃত্যু হয়। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বিচিত্র মল্লিক বলেন, প্রাথমিকভাবে তার মাথায় এক রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই আলমগীর হোসেনের মৃত্যু হয়।

এদিকে আলমগীর হোসেন নিহত হওয়ার খবরে ঘটনার পর বিএনপির যশোর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবেই বিএনপি নেতা আলমগীরকে হত্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow