খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নেয়ার স্মৃতি সামনে আনলেন আসিফ নজরুল

Jan 9, 2026 - 16:47
 0  7
খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নেয়ার স্মৃতি সামনে আনলেন আসিফ নজরুল
ছবি : সংগৃহীত

আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নেয়ার স্মৃতি সামনে আনলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে সাক্ষাৎকার নেয়ার গল্প তুলে ধরেন তিনি।

আসিফ নজরুল লিখেছেন— আমি অনেক আগে থেকে খালেদা জিয়ার ভক্ত ছিলাম। তিনি সাংবাদিক হিসেবে আমাকে পছন্দ করতেন, সম্ভবত। ১৯৮৮/৮৯ সালের কথা। বিএনপির অফিস ছিল তখন ধানমন্ডিতে। আমি উনার অফিসে বসে সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। লিখিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর তিনি মুখোমুখি প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেন সেদিন।

ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) একটা বিরাট টেবিলের পেছনে বড়সড় চেয়ারে। সামনে টেবিল ঘিরে রাখা চেয়ারের একটাতে আমি, দূরের আরেকটাতে রিপন ভাই (ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপন)। লম্বালম্বি ঘরটার অন্যপ্রান্তে বেতের সোফাসেট। সেখানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বসে আছেন।

ম্যাডামের লিখিত উত্তর বেশী আকর্ষণীয় মনে হলো না। সাক্ষাৎকার প্রাণবন্ত করতে আমি ম্যাডামকে চোখা একটা প্রশ্ন করলাম। তিনি একটু থমকে গেলেন। পেছন থেকে সাইফুর রহমান সাহেব বললেন, এটা কী ধরনের প্রশ্ন করলেন!

আমি তখন খুব রাগী তরুণ ছিলাম। সাইফুর রহমানকে বললাম, আপনি কথা বলছেন কেন? আমি তো আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছি না।

তিনি রেগে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। ম্যাডাম তাকে থামালেন। তারপর হাসিমুখে আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন। এরপরও চার/পাচবার উনার একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছি সাপ্তাহিক বিচিত্রায়।

পিএইচডি শেষ করে দেশে ফেরার পর আমি কলামিস্ট হলাম, টকশো তে কথা বলা শুরু করলাম। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উনার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, অপবাদ, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হলো। খালেদা জিয়া এর মধ্যেও অটল থাকলেন অসীম আত্মত্যাগ, সাহসিকতা আর দেশপ্রেম নিয়ে!

আমি ম্যাডামকে প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করতে শুরু করলাম। শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলে কোনোদিন আমি এই শ্রদ্ধা আর সমর্থন প্রকাশে বিরত ছিলাম না। মির্জা ফখরুল ভাই ছাড়া বিএনপির-ই কাউকে ম্যাডামের পক্ষে এতটা বলতে শুনিনি সেই পনের বছরে।

আল্লাহ আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছেন। ম্যাডামকে শেষ বিদায় দেয়ার দিনে প্রায় সারাটা সময় ছিলাম উনার আর উনার পরিবারের আশেপাশে। উনার জন্য প্রথম দোয়াতে শরীক হয়েছি। উনাকে জড়িয়ে রাখা ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এই পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য তিনি সারাজীবন বহু বঞ্চনা আর দুঃখ কষ্টের শিকার হয়েছেন। এই পতাকা উনার সন্তানের হাতে তুলে দেয়ার সৌভাগ্যও হলো আমারি। আল্লাহ কাছে হাজারো শুকরিয়া।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow