ভোটে সেনা-পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করে পরিপত্র জারি

Jan 7, 2026 - 16:54
 0  3
ভোটে সেনা-পুলিশসহ অন্য বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করে পরিপত্র জারি
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

নথিতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি এবং র‍্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্য সংখ্যা এবং তাদের কার্যপরিধি সুবিন্যস্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, ম্যাজিস্ট্রেটদের ভূমিকা, এবং জরুরি প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা গ্রহণের নিয়মাবলী এখানে বর্ণিত আছে।

নির্বাচনের দিন এবং এর আগে-পিছনের সময়কালে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক পদক্ষেপের তালিকাও এই উৎসগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীকে 'In Aid to Civil Power'-এর আওতায় স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন করা হবে। তাদের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে প্রয়োজনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা। এছাড়া রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে টহল প্রদান করার কথাও বলা হয়েছে।

পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে বলা হয়েছে, বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনের সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করবে। তাদের দায়িত্ব ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে এবং নির্বাচনী এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম ও নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এছাড়া নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা প্রদান, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন। সংবেদনশীল কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়। 

আরও বলা হয়, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র‍্যাব ও আনসার ব্যাটালিয়ন মূলত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। 

পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি নির্বাচনের ২ দিন আগে থেকে নির্বাচনের ২ দিন পর পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত থাকবেন।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব এবং এলাকার ধরন (মেট্রোপলিটন বা মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে) অনুযায়ী সশস্ত্র পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যায় মোতায়েন করা হবে। যেমন, মেট্রোপলিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৫ জন পুলিশ এবং ১২ জন আনসার/ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow