নেইমারের অবসর নিয়ে নতুন তথ্য
দীর্ঘদিনের চোট আর বারবার অস্ত্রোপচারের ধকল সামলাতে না পেরে ফুটবলকেই বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরার পরও একের পর এক শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য গত কয়েক মাস ছিল চরম মানসিক যন্ত্রণার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নেইমারের বাবা নেইমার সিনিয়র তার ছেলের এই কঠিন সময়ের অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন।
নেইমার হাঁটুর লিগামেন্টের গুরুতর চোটের কারণে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার পর সান্তোসে ফেরেন নেইমার। কিন্তু সেখানেও হাঁটুর মেনিসকাসে নতুন করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়লে তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। নেইমার সিনিয়র জানান, দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ক্লান্ত হয়ে নেইমার একবার তাকে বলেছিলেন,‘আমি আর নিতে পারছি না। জানি না অপারেশন করানোটা আদৌ সার্থক হবে কি না। আমার জন্য মনে হয় এখানেই শেষ।’
নেইমারের বাবা আরও অভিযোগ করেন যে, অস্ত্রোপচারের খবর পরিবারের পক্ষ থেকে নেইমারকে জানানোর আগেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মানুষ বলতে থাকে নেইমার এ বছর আর খেলবে না—এসব খবর ওকে ভীষণভাবে আঘাত করে এবং মানসিকভাবে পর্যুদস্ত করে ফেলে।
তবে তীব্র হতাশা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০২৫ সালে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়েও মাঠে নামতে দেখা গেছে তাকে। মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপে সেলেসাওদের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার স্বপ্নই নেইমারকে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। নেইমার সিনিয়র তার ছেলেকে উদ্বুদ্ধ করে বলেছিলেন,‘যদি আমরা এখন হাল ছেড়ে দিই, তবে আর কিছুই বাকি থাকবে না। বিশ্বকাপটা সামনে রেখেই তোমাকে এগোতে হবে।’
বর্তমানে নতুন করে করা অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আছেন নেইমার। ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস-এ যাওয়ার গুঞ্জন থাকলেও ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, আরও এক মৌসুম সান্তোসে থেকে নিজেকে পুরোপুরি ফিট করে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার পরিকল্পনাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এই তারকা।
What's Your Reaction?

