গাইবান্ধায় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ৫১ পরীক্ষার্থী আটক, জব্দ ৪৭ অবৈধ ডিভাইস
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ডসহ ৪৭টি অবৈধ ও বিশেষ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা পরীক্ষাকালীন গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এসব পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৩৭টি কেন্দ্র থেকে ৩৭ জন, পলাশবাড়ী উপজেলার ৪টি কেন্দ্র থেকে ১২ জন এবং ফুলছড়ি উপজেলার ২টি কেন্দ্র থেকে ২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। অভিযানে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।
আটক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে দুইজন, সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে চারজন, গাইবান্ধা সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে নারীসহ তিনজন, চাপাদহ বিএল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে একজন, কুপতলা আব্দুল কাউয়ুম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১৩ জন, লক্ষীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে একজনসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র থেকে মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়। পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকেও পরীক্ষার্থীদের আটক করা হয়।
এছাড়া চার পরীক্ষার্থীর কানের ভেতরে অত্যাধুনিক ব্লুটুথ ডিভাইস প্রবেশ করানো ছিল। পরে সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের মাধ্যমে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষাকেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বন ও নিষিদ্ধ ডিভাইস বহনের অভিযোগে মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৪৭টি ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। আটকরা বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। প্রবেশের সময় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে তল্লাশি করা হয় এবং পরীক্ষা চলাকালেই অভিযুক্তদের আটক করা হয়।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় চার শতাধিক শূন্য পদের বিপরীতে ২৭ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন ২২ হাজার ১৯৭ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ৫৩১ জন। এসব পরীক্ষার্থীর জন্য গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও পলাশবাড়ী উপজেলায় মোট ৪৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
What's Your Reaction?

